মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত নিরসনে একটি বড় ধরনের কূটনৈতিক অগ্রগতির ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল, ২০২৬) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, আগামী সপ্তাহ বা তার পরের সপ্তাহে হোয়াইট হাউসে ইসরায়েল ও লেবাননের প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক শান্তি সংলাপ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে জানান যে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের সঙ্গে তাঁর ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আলোচনার প্রেক্ষিতে উভয় দেশ শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) ইএসটি সময় বিকেল ৫টা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ১০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে।
ট্রাম্প এই উদ্যোগকে ঐতিহাসিক উল্লেখ করে বলেন, “গত ৪৪ বছরের মধ্যে এই প্রথম ইসরায়েল এবং লেবাননের মধ্যে সরাসরি বৈঠক হতে যাচ্ছে। আমার বিশ্বাস, এই বৈঠকের মাধ্যমেই আমরা একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে দেখবো।”
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের সূচনা হয় যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ‘এপিক ফিউরি’ ও ‘রোরিং লায়ন’ নামক সামরিক অভিযান শুরু করে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে পৃথক বিমান অভিযান শুরু করে, যা পরবর্তীতে ব্যাপক স্থল ও আকাশ যুদ্ধে রূপ নেয়।
গত কয়েক সপ্তাহের ভয়াবহ সংঘাতের পর এই ১০ দিনের যুদ্ধবিরতিকে একটি বড় স্বস্তি হিসেবে দেখছে আন্তর্জাতিক মহল।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই শান্তি আলোচনা সফল করতে তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন। এছাড়াও জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান কেইন এই প্রক্রিয়ায় কারিগরি সহায়তা প্রদান করবেন। হোয়াইট হাউসের মতে, ১৯৮৩ সালের পর এটিই হবে দুই দেশের মধ্যে প্রথম কোনো অর্থবহ ও উচ্চপর্যায়ের সংলাপ।
তবে এই যুদ্ধবিরতি কতটুকু স্থায়ী হবে তা নিয়ে কিছুটা শঙ্কা রয়েছে। লেবাননের সেনাবাহিনী ইতিমধ্যে কিছু ‘Ceasefire Violation’ বা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। তা সত্ত্বেও, ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ থামানোর ১০ম সফল প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

