সত্যজিৎ দাস, (মৌলভীবাজার):
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে অবৈধ বালু উত্তোলন প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসনের পরিচালিত মোবাইল কোর্ট অভিযানে একটি বালুভর্তি ডায়ানা ট্রাকসহ বালু উত্তোলনের বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে মূল অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং সর্বোচ্চ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন,২০১০ এবং ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন,২০২৩ অনুযায়ী থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়,শুক্রবার (১ আগস্ট) বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত শ্রীমঙ্গল উপজেলার রাধানগর,ভুরভুরিয়া ছড়া ও আশিদ্রোণ ইউনিয়নের সাইটুলা এলাকার হেকিম মিয়ার লেবু বাগানসংলগ্ন স্থানে অবৈধ বালু উত্তোলন প্রতিরোধে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. জিয়াউর রহমান এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মিনহাজুল ইসলাম। অভিযানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ সহযোগিতা করে।
প্রশাসনের অনুসন্ধানে জানা যায়,আশিদ্রোণ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাইটুলা এলাকায় লেবু বাগানের আড়ালে মো. হেকিম মিয়া (৫৫) একটি বালু সিন্ডিকেট গড়ে তুলে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রি করে আসছিলেন। অভিযানের সময় প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে সংশ্লিষ্টরা পালিয়ে যাওয়ায় ঘটনাস্থলে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। ফলে মোবাইল কোর্ট আইন,২০০৯ অনুযায়ী তাৎক্ষণিকভাবে শাস্তি প্রদান করা যায়নি।
তবে অভিযানে হেকিম মিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা তল্লাশি করে আনুমানিক ৩০০ ঘনফুট সদ্য উত্তোলিত বালুভর্তি একটি ডায়ানা ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-ড ১২-৭১৮২) এবং বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত বিভিন্ন মালামাল জব্দ করা হয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধির উপস্থিতিতে জব্দ তালিকা প্রস্তুত করে সেগুলো আলামত হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় মো. হেকিম মিয়াসহ কয়েকজনকে আসামি করে শ্রীমঙ্গল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার মাধ্যমে মূল অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে সর্বোচ্চ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
একই দিনে রাধানগর ও ভুরভুরিয়া ছড়া এলাকায় পৃথক অভিযানে অবৈধ বালু উত্তোলনের সম্ভাব্য স্থানসমূহ পরিদর্শন করা হয়। এ সময় স্থানীয় জনগণকে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে প্রশাসনের সঙ্গে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. জিয়াউর রহমান বলেন, “অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে পরিবেশ, কৃষিজমি ও প্রাকৃতিক জলপ্রবাহ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান নিয়মিত চলবে। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয় এবং অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মিনহাজুল ইসলাম বলেন, “অভিযানকালে অভিযুক্তরা পালিয়ে গেলেও গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ করা হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়েছে। মূল অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। পরিবেশ ও সরকারি সম্পদ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”

