ফরিদপুরের সদরপুরে বসতঘরের জানালা ভেঙে অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে (১৫) অপহরণের পর সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন ফরিদপুর-৪ (সদরপুর, ভাঙ্গা ও চরভদ্রাসন) আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল। তিনি ভুক্তভোগীর বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।
শনিবার (১ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে ভুক্তভোগীর বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল। এ সময় তিনি বলেন, “এমন জঘন্য ও পাশবিক অপরাধ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অপরাধী যে-ই হোক, তাকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। ভুক্তভোগী পরিবার যেন দ্রুততম সময়ে ন্যায়বিচার পায়, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমরা এই অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করব।”
এরপর দুপুর ৩টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ফাতেমা ইসলাম ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেন।
এর আগে একই দিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে অভিযান চালিয়ে এ ঘটনায় জড়িত রনি বেপারি (১৮) নামে আরও এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাতে উপজেলার ভাষাণচর ইউনিয়নের একটি গ্রামে ১০–১৫ জনের একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত একটি বসতঘর ঘেরাও করে জানালা ভেঙে ওই স্কুলছাত্রীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। স্বজন ও প্রতিবেশীরা বাধা দিতে গেলে তাদের ভয়ভীতি ও হামলার হুমকি দেওয়া হয়। পরে পাশের গ্রামের একটি পুকুরপাড়ে নিয়ে তিন যুবক পালাক্রমে তাকে ধর্ষণ করে। রাত প্রায় ৩টার দিকে অসুস্থ অবস্থায় তাকে বাড়ির উঠানে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
ঘটনার পর এলাকাবাসী সংঘবদ্ধ হয়ে ধাওয়া দিয়ে দুই অভিযুক্তকে একটি মোটরসাইকেলসহ আটক করে। পরে গণপিটুনির পর তাদের সদরপুর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। আটক দুজন হলেন হেলাল মৃধা (২০) ও রইস শিকদার (১৬)।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে সদরপুর থানায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৬–৭ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুন শাহ্ বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

