মো. তৌহিদুর রহমান, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:
ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দিতে গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ঘাট বাস টার্মিনাল থেকে শত শত বাস দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাচ্ছে। তবে এসব বাস টার্মিনাল ছাড়ার আগে বিভিন্ন খাতে আড়াই থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বাসচালক ও সুপারভাইজারদের দাবি, মালিক সমিতি, সিরিয়াল ও কাউন্টার ফিসহ বিভিন্ন নামে এ অর্থ আদায় করা হচ্ছে। যদিও মালিক-শ্রমিক নেতারা বলছেন, এসব অর্থ শ্রমিক কল্যাণ ও বিভিন্ন সামাজিক কাজে ব্যয় করা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার অন্যতম প্রবেশদ্বার রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাট। প্রতিদিন এখান দিয়ে শত শত যানবাহন চলাচল করে। ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে যানবাহনের সংখ্যা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায়। এ সুযোগে নানা খাতে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, দৌলতদিয়া ঘাট থেকে যাত্রীবোঝাই করে গন্তব্যে রওনা দিতে প্রতিটি বাসকে ডিপার্চার (ডিপার্সার) বাবদ ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা, সিরিয়াল বাবদ ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং যাত্রী তোলার জন্য কাউন্টার বাবদ দেড় থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। ফলে একটি বাসকে টার্মিনাল ছাড়তে মোট আড়াই থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ব্যয় করতে হচ্ছে।
গত ২৭ মে বিকেলে দৌলতদিয়া বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায়, টার্মিনালজুড়ে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে দূরপাল্লার বিভিন্ন পরিবহন। ঈদের বাড়তি যাত্রীচাপ সামাল দিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অতিরিক্ত বাস আনা হয়েছে।
বরিশাল থেকে যাত্রী নিতে আসা একটি বাসের সুপারভাইজার মো. ইমন হোসেন বলেন, “আমরা তো যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নিতে চাই না। কিন্তু দৌলতদিয়া ঘাট থেকে যাত্রী নিয়ে বের হতে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা খরচ হয়ে যায়। সেই টাকা কোনো না কোনোভাবে সমন্বয় করতে হয়।”
যশোর থেকে আসা বাসচালক মো. রিয়াজ শেখ বলেন, “ঈদের সময় এখানে একটি সিন্ডিকেট কাজ করে। নিজেরা যাত্রী তুললেও কাউন্টার বাবদ অন্তত দেড় হাজার টাকা দিতে হয়। ডিপার্চার ও সিরিয়াল বাবদও টাকা দিতে হয়। এখানে আমরা অনেকটা অসহায়।”
খুলনা মেট্রো-ব ১১-০২৮২ নম্বর বাসের সুপারভাইজার মো. হেলাল মোল্লা বলেন, “ফরিদপুর থেকে এসেছি। এখানে ৫০০ টাকা ডিপার্চার ফি দিতে হয়েছে। সবাই দিচ্ছে, তাই আমাদেরও দিতে হচ্ছে।”
ঢাকা মেট্রো-ব ১১-০০৩৪ নম্বর বাসের সুপারভাইজার মো. সৈয়দ হোসেন বলেন, “সিরিয়াল, কাউন্টার ও ডিপার্চার বাবদ আড়াই থেকে ৩ হাজার টাকা খরচ হয়। এটা এখানকার প্রচলিত নিয়ম।”
ডিপার্চার বাবদ অর্থ আদায়কারী মো. রুহুল আমিন বলেন, “আমি শুধু ৫০০ টাকা ডিপার্চার ফি আদায় করি। এটি মালিক সমিতির টাকা। কেন নেওয়া হয়, সে বিষয়ে মালিক সমিতিই ভালো বলতে পারবে।”
এ বিষয়ে রাজবাড়ী জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি খোন্দকার মাহমুদুল হক জুয়েল বলেন, “ডিপার্চার বাবদ যে টাকা নেওয়া হয়, তা শ্রমিক কল্যাণ ও বিভিন্ন সামাজিক কাজে ব্যয় করা হয়। এ বিষয়ে কোনো বাস মালিকের অভিযোগ নেই। আমার নিজের বাস থেকেও এই টাকা নেওয়া হয়।”
তিনি আরও বলেন, “সারা বছর শ্রমিকরা কাজ করেন। কিন্তু ঈদের সময় মৌসুমি কাউন্টার খুলে বহিরাগতরা অর্থ উপার্জন করেন। এই অর্থ শ্রমিকদের কল্যাণে ব্যয় করা হয়।”
এ বিষয়ে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন বলেন, “এ ধরনের কোনো অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি। লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

