সত্যজিৎ দাস, (মৌলভীবাজার):
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ১০নং হাজীপুর ইউনিয়নের বিলেরপার গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বেহাল অবস্থা বিরাজ করছে। প্রায় অর্ধশতক পেরিয়ে গেলেও সড়কটি স্থায়ীভাবে সংস্কারের উদ্যোগ না নেওয়ায় রোগী, শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় হাজারো মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,শমশেরনগর-পীরেরবাজার সড়কের একটি মোড় থেকে চাতলাপুর পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার অংশ অত্যন্ত জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এ সড়কটি শরীফপুর,শমশেরনগর ও চাতলা সীমান্তগামী মানুষের প্রধান যাতায়াত পথ। হাজীপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিলেরপার গুচ্ছগ্রাম এলাকার প্রায় ২০০ পরিবারের সহস্রাধিক মানুষের দৈনন্দিন চলাচল এই সড়কের ওপর নির্ভরশীল।
সরেজমিনে দেখা যায়,কয়েক বছর আগে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কুদ্দুছের বাড়ি থেকে চাতলাপুর চা-বাগান সীমান্তসংলগ্ন চান মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত কিছু অংশে মাটি ফেলে সংস্কার করা হয়েছিল। তবে এরপর আর কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত পাথরের সলিংয়ের অধিকাংশই উঠে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
বিলেরপার গ্রামের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী আব্দুল কুদ্দুছ বলেন,“আমার বাবা গুরুতর অসুস্থ। চিকিৎসার জন্য প্রায়ই মৌলভীবাজার যেতে হয়। কিন্তু রাস্তার এমন অবস্থার কারণে অটোরিকশাচালকরা যেতে চান না। কেউ যেতে রাজি হলেও দ্বিগুণ ভাড়া দাবি করেন।”
স্থানীয় সিএনজিচালক মঈনু উদ্দিন বলেন, “রাস্তার অবস্থা এতটাই খারাপ যে রোগী নিয়ে চলাচল করতে ভয় লাগে। গাড়িরও ব্যাপক ক্ষতি হয়। ফলে অনেক সময় রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয় না। সড়কটি সংস্কার হলে যাত্রী ও রোগীদের দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া যাবে।”
হাজীপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. গোলজার আহমদ জানান,ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দ থেকে একবার কিছু মাটি ফেলে সড়কটির আংশিক সংস্কার করা হয়েছিল। তবে পুরো কাজ সম্পন্ন করতে বড় ধরনের বরাদ্দ প্রয়োজন। তিনি বলেন,“জেলা পরিষদ বা সংসদ সদস্যের বিশেষ বরাদ্দ পাওয়া গেলে সড়কটি পাকাকরণ সম্ভব হবে। স্থানীয়রা ইতোমধ্যে জেলা পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার আবেদন করেছেন,কিন্তু এখনো কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি।”
স্থানীয়দের দাবি,সড়কটি দ্রুত সংস্কার ও পাকাকরণ করা হলে এলাকার শিক্ষার্থী,রোগী এবং সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব হবে।

