সত্যজিৎ দাস:
শ্রীমঙ্গলে খাল খনন প্রকল্পে জলাবদ্ধতা নিরসনের উদ্যোগ মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার বিভিন্ন মৌজায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে খাল খনন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রায় ১ কোটি ২৮ লাখ ৭৭ হাজার ৫৩৭ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের আওতায় খাল খননের পাশাপাশি দুই পাড়ে বাঁধ নির্মাণ, বৃক্ষরোপণ এবং পানি নিষ্কাশনের জন্য আরসিসি রিং পাইপ স্থাপন করা হবে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জিয়াউর রহমান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্লাবন পাল, শ্রীমঙ্গল থানার তদন্ত কর্মকর্তা, উপজেলা ও স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন ওয়ার্ডের সদস্য এবং এলাকাবাসী।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ভুনবীর ইউনিয়নের লইয়ারকুল, আলিসারকুল, বাদেআলিশা, শাসন রাজপাড়া এবং পাত্রীকুল মৌজার প্রায় চার হাজার একর জমি নতুন করে চাষাবাদের আওতায় আসবে। প্রায় ৪০ বছর ধরে জলাবদ্ধতার কারণে অনাবাদি থাকা এসব জমি পুনরায় কৃষিকাজে ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এতে স্থানীয় কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, “এই প্রকল্প শুধু জলাবদ্ধতা দূর করবে না, বরং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করে এলাকার মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জিয়াউর রহমান বলেন, “এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন আসবে। দীর্ঘদিনের সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে এবং কৃষকরা আবারও তাদের জমি চাষাবাদের আওতায় আনতে পারবেন।”
উল্লেখ্য,২০২৬ সালের মার্চ মাস থেকে সরকার সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল পুনঃখননের একটি বৃহৎ কর্মসূচি শুরু করেছে। পাঁচ বছর মেয়াদি এই প্রকল্পের লক্ষ্য সেচ সুবিধা বৃদ্ধি,জলাবদ্ধতা নিরসন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমানো। প্রথম পর্যায়ে জুন ২০২৬ পর্যন্ত প্রায় ১,২০৪ কিলোমিটার নতুন খনন এবং ১,৫০০ কিলোমিটার পুনঃখননের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ১৮০ দিনের মধ্যে ২৯২ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ এবং ৩১৬ কিলোমিটার নদী ড্রেজিংয়ের কাজও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়,কৃষি মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত এই প্রকল্প দেশের কৃষি ও পানি ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।

