সিলেট সফরের দ্বিতীয় পর্যায়ে শনিবার দুপুরে সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নে এক ব্যতিক্রমী ও হাস্যরসাত্মক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বাসিয়া নদী পুনঃখনন পরবর্তী জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মঞ্চে উঠতেই উপস্থিত জনতা একযোগে ‘দুলাভাই, দুলাভাই’ স্লোগান শুরু করেন। প্রধানমন্ত্রী বক্তৃতা দেওয়ার জন্য মাইক্রোফোন হাতে নিলেও স্লোগানের তীব্রতা কমছিল না।
দীর্ঘক্ষণ স্লোগান না থামায় একপর্যায়ে কৌতুক করে প্রধানমন্ত্রী বলে ওঠেন, “দুলাভাইকে কথা বলতে না দিলে দুলাভাই যাবে গিয়া, যাই আমি। যাবো?” প্রধানমন্ত্রীর এমন সরস মন্তব্যে মঞ্চে উপবিষ্ট অতিথিরা হেসে ওঠেন এবং উপস্থিত জনতাও হাসিতে ফেটে পড়েন। এরপর তিনি আরও যোগ করেন, “কথা বলতে চুপ করতে হবে। আমি কথা বলি শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে শুনতে হবে কথা।” উল্লেখ্য, ডা. জোবায়দা রহমানের পৈতৃক নিবাস সিলেটে হওয়ায় স্থানীয়দের কাছে তারেক রহমান ‘সিলেটের জামাই’ হিসেবে অত্যন্ত জনপ্রিয়।
মজা ও হাস্যরসের পর প্রধানমন্ত্রী সিরিয়াস আলোচনায় ফিরে আসেন। তিনি বলেন, ১৯৭৭ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই খালটি প্রথম খনন করেছিলেন। পরবর্তীতে অযত্নে এটি বন্ধ হয়ে যায়।
এই পুনঃখননের ফলে সরাসরি ৮০ হাজার এবং পরোক্ষভাবে প্রায় দেড় লাখ কৃষক উপকৃত হবেন। এর ফলে এলাকায় প্রায় ৭ হাজার মেট্রিক টন অতিরিক্ত ফসল উৎপাদিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। খালের দুই পাশে ফলের গাছ লাগানোর ঘোষণাও দেন তিনি, যেন স্থানীয়রা পুষ্টির চাহিদা মেটাতে পারেন।
কৃষকবান্ধব সরকারের অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন:
নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার গঠন করেই কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
সরকার গঠনের মাত্র ১০ দিনের মাথায় ১২ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, ১২ তারিখের নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের মানুষ এমন একটি সরকার নির্বাচিত করেছে, যারা জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য।
প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “আমরা চাই এ দেশের কৃষক ভাইয়েরা ভালো থাকুক। শুধু বাসিয়া নয়, দেশের সকল মৃতপ্রায় খাল পর্যায়ক্রমে খনন করা হবে।”

