অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের (ক্রুড অয়েল) তীব্র সংকটের কারণে উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি লিমিটেড (ইআরএল)। গত দুই মাস ধরে অপরিশোধিত তেল আমদানি বন্ধ থাকায় রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেলের পর থেকে কারখানাটির পরিশোধন কার্যক্রম পুরোপুরি থমকে যায়।
ইআরএল কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি সচল রাখতে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হয়েছিল। সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকেলে কারখানাটিতে শেষ পরিশোধন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। মূলত মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় কর্তৃপক্ষ অনির্দিষ্টকালের জন্য পরিশোধন কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গত দুই মাস ধরে বিদেশ থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানিতে বিঘ্ন ঘটায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ইআরএল সাধারণত দৈনিক গড়ে একটি বড় পরিমাণের ক্রুড অয়েল পরিশোধন করে দেশের জ্বালানি চাহিদার একটি অংশ জোগান দেয়। তবে আমদানিকৃত তেলের জাহাজ সময়মতো না পৌঁছানোয় এই অচলাবস্থা তৈরি হলো।
দেশের একমাত্র শোধনাগার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানি তেলের বাজারে দীর্ঘমেয়াদী কোনো প্রভাব পড়বে কি না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। যদিও জ্বালানি বিভাগ থেকে প্রায়ই আশ্বস্ত করা হয় যে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের বিকল্প মজুত রয়েছে, তবুও রাষ্ট্রায়ত্ত এই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ হওয়াকে জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
ইআরএল পুনরায় কবে চালু হবে, তা পুরোপুরি নির্ভর করছে নতুন করে অপরিশোধিত তেল আমদানির ওপর। দ্রুত আমদানির প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হলে এই স্থবিরতা আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।

