মুহাম্মদ মহসিন আলী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের ছতরপুর গ্রামে অবস্থিত প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো ছতরপুর শাহী ঈদগাহ মসজিদটি আজও ইতিহাস, ঐতিহ্য ও নান্দনিক স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। স্থানীয়দের কাছে এটি ‘তিন গম্বুজের মসজিদ’ কিংবা ‘গোলাপি মসজিদ’ নামেই বেশি পরিচিত।
ঐতিহাসিক এই মসজিদটির নির্মাণকাল সুনির্দিষ্টভাবে জানা না গেলেও ব্রিটিশ আমলের ১৮৭৬ সালের একটি মানচিত্রে এর অস্তিত্বের স্পষ্ট উল্লেখ পাওয়া যায়। ধারণা করা হয়, প্রায় দুই শতাব্দী আগে স্থানীয় একটি ইটভাটায় তৈরি বড় আকারের ইট ব্যবহার করে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল।
স্থাপত্যশৈলীতে মসজিদটি বেশ আকর্ষণীয়। এতে রয়েছে তিনটি গম্বুজ, যার মধ্যে মাঝের গম্বুজটি তুলনামূলক বড়। প্রায় তিন ফুট পুরু দেয়াল, ভেতর-বাহিরে সূক্ষ্ম কারুকাজ এবং গোলাপি রঙের নান্দনিকতা মসজিদটিকে আলাদা বৈশিষ্ট্য দিয়েছে। মসজিদের পাশে রয়েছে অজুখানা ও ইমামের থাকার জন্য নির্ধারিত কক্ষ। তিনদিকে বাউন্ডারি ঘেরা এবং সামনে বিস্তৃত ঈদগাহ মাঠ মসজিদটির আধ্যাত্মিক পরিবেশকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

প্রতিদিন শতাধিক মুসল্লি এখানে নামাজ আদায় করেন। বিশেষ করে জুমা ও মাহে রমজানে তারাবির সময় মুসল্লিদের উপস্থিতি বেড়ে যায় কয়েকগুণ। স্থান সংকুলান না হওয়ায় অনেক সময় মুসল্লিদের ঈদগাহ মাঠে চট বিছিয়ে নামাজ আদায় করতে হয়।
স্থানীয় মুসল্লিদের ভাষ্য, এটি একটি ঈদগাহ মসজিদ হওয়ায় আশপাশের অন্তত তিনটি গ্রামের মানুষ এখানে একত্রিত হন। প্রতি ঈদে কয়েক হাজার মুসল্লির সমাগম ঘটে, যা এলাকায় এক বিশেষ ধর্মীয় আবহ তৈরি করে। প্রাচীন গম্বুজওয়ালা এই মসজিদের সৌন্দর্য উপভোগ করতে দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এখানে আসেন।
মসজিদের ইমাম ও খতিব হাফেজ সিরাজুল ইসলাম জানান, “আমি গত ২২ বছর ধরে এখানে ইমামতি করছি। মুসল্লিরা অত্যন্ত আন্তরিক ও সহযোগিতাপরায়ণ। তবে অর্থের অভাবে মসজিদের কিছু উন্নয়ন কাজ এখনো অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। সরকারি সহায়তা পেলে মসজিদটির আরও উন্নয়ন সম্ভব।”
মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী আমিনুল হক চৌধুরী বলেন, “এটি বিজয়নগর উপজেলার অন্যতম প্রাচীন স্থাপত্য। প্রতিদিন বহু দর্শনার্থী এখানে এসে এর ইতিহাস সম্পর্কে জানতে চান। স্থানীয় ইটভাটায় তৈরি ইট দিয়েই মসজিদটি নির্মিত হয়েছিল। এটি বিজয়নগরের সবচেয়ে পুরোনো মসজিদ হিসেবে পরিচিত।”
ঐতিহ্যের ধারক এই ছতরপুর শাহী ঈদগাহ মসজিদ শুধু ধর্মীয় উপাসনালয় নয়, বরং অঞ্চলের ইতিহাস ও সংস্কৃতির এক জীবন্ত সাক্ষী হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

