ইরানে টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫৭ শতাংশে। এই রক্তাক্ত পরিস্থিতির মধ্যেই ২৬ বছর বয়সী তরুণ বিক্ষোভকারী এরফান সোলতানির ফাঁসির নির্দেশ ঘিরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। আজ বুধবার (১৪ জানুয়ারি) যেকোনো সময় তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘হেনগো অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটস’ এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, গত ৮ জানুয়ারি তেহরানের নিকটবর্তী কারাজ শহর থেকে এরফানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ‘মুহারেবেহ’ বা ‘ঈশ্বরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা’র অভিযোগ আনা হয়েছে।
গ্রেপ্তারের মাত্র এক সপ্তাহের কম সময়ের মধ্যে কোনো আইনি সহায়তা বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। আজ বুধবার তার ফাঁসি কার্যকর করার চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করেছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।
বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন এবং ফাঁসির নির্দেশের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কড়া ভাষায় সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, “যদি তারা এমন (ফাঁসি) কিছু করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ নেবে। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ এক বিষয়, কিন্তু হাজার হাজার মানুষ হত্যার পর ফাঁসি কার্যকর করা হলে ইরানের জন্য পরিণতি ভালো হবে না।”
ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ইরানিদের উদ্দেশ্যে লিখেছেন, “HELP IS ON ITS WAY” (সাহায্য আসছে)। তিনি ইতিমধ্যে ইরানি কর্মকর্তাদের সাথে সব ধরনের বৈঠক বাতিল করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (X) জানিয়েছে, ইরানি কর্তৃপক্ষ বর্তমানে ১০ হাজার ৬০০-এর বেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করেছে। এরফান সোলতানি এই বর্তমান আন্দোলনের প্রথম বিক্ষোভকারী হিসেবে ফাঁসির মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন, তবে মন্ত্রণালয় আশঙ্কা করছে যে এটি কেবল শুরু।
ইরানি কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভকারীদের ‘দাঙ্গাবাসী’ ও ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে এবং দাবি করেছে যে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের উসকানিতে দেশে অস্থিতিশীলতা ছড়াচ্ছে। ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান জানিয়েছেন, আটককৃতদের বিচার দ্রুততম সময়ের মধ্যে শেষ করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি আজ এরফান সোলতানির ফাঁসি কার্যকর করা হয়, তবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক উত্তজনা নতুন মাত্রা পেতে পারে।

