ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে তৃতীয় দফার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে নিজেদের অবস্থানে কঠোরতম বার্তা দিয়েছে ছাত্র সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)। দলটির পক্ষ থেকে স্পষ্ট ভাষায় সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ বা বরখাস্ত ব্যতীত আর কোনো বিষয়েই সরকারের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।
আজ শনিবার (২৫ জুলাই ২০২৬) সকালে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-তে প্রকাশিত সংবাদের বরাতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের এই অনড় অবস্থানের কথা জানা গেছে। ৩ দফা দাবিতে অনড় আন্দোলনকারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ দেওয়া এক পোস্টে সিজেপি-র জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা জানান: “শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি একেবারেই অলঙ্ঘনীয় ও অলোচনা-অযোগ্য।
সরকার যদি এতে রাজি না হয়, তবে পরবর্তী আলোচনার আর কোনো যৌক্তিকতা নেই।” বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আন্দোলনকারীদের মূল তিন দফা দাবি হলো:১. কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের তাৎক্ষণিক পদত্যাগ বা অপসারণ। ২. আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর থেকে সব ধরনের মামলা প্রত্যাহার ও আইনি সুরক্ষা প্রদান। ৩. নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে হতাশায় আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ১ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ প্রদান। শুক্রবারের বৈঠক ও সরকারের অবস্থানএর আগে গতকাল শুক্রবার (২৪ জুলাই) দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে সিজেপি প্রতিনিধিদের দুই ঘণ্টাব্যাপী দ্বিতীয় দফার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সেই বৈঠকে আইনি সুরক্ষা ও ক্ষতিপূরণের বিষয়ে নীতিগত ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়ে কোনো রফা হয়নি। সরকার ইতিমধ্যেই ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)-এর ৪৭ জন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেছে, শিক্ষাসচিবকে বদলি করেছে এবং প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত ও কঠোর আইনি বিধান চালুর ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু সিজেপির মতে, মূল জবাবদিহিতা শিক্ষামন্ত্রীরই, তাই কেবল আমলা বা কর্মকর্তা ছাঁটাই করে আন্দোলন স্তব্ধ করা যাবে না।
অন্যদিকে শীর্ষ সরকারি সূত্রে জানা গেছে, মোদি সরকার এই মুহূর্তে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি মেনে নেওয়ার পক্ষে নয়। এমন প্রেক্ষাপটে আজ বিকেলের প্রস্তাবিত তৃতীয় দফার বৈঠকটি চরম অনিশ্চয়তা ও উত্তেজনার মধ্য দিয়ে গড়াচ্ছে।

