বিশ্বকাপে অভিষেক যে কোনো ফুটবলারের জন্যই বিশেষ মুহূর্ত। ফিফা এ উপলক্ষকে আরও স্মরণীয় করে তুলতে এবারের আসরে বিশেষ ব্যাজের ব্যবস্থাও করেছে। তবে সুইডেনের ইয়াসিন আয়ারির অভিষেক হয়ে উঠেছে ভিন্নমাত্রার এক আবেগঘন অধ্যায়।
কারণ তার অভিষেক ম্যাচটি ছিল বাবার দেশ তিউনিসিয়ার বিপক্ষে। মাঠের ভেতরে শুধু প্রতিদ্বন্দ্বিতাই নয়, এই ম্যাচে ছিল ব্যক্তিগত আবেগ ও পারিবারিক ইতিহাসের ছাপও।
ইয়াসিন আয়ারির বাবা আজ্জুজ আয়ারির জন্ম ও বেড়ে ওঠা তিউনিসিয়ায়। ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে তিনি পরবর্তীতে সুইডেনে পাড়ি জমান। যদিও নিজের ক্যারিয়ার প্রত্যাশিত উচ্চতায় পৌঁছায়নি, তার ছেলে ইয়াসিন সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেন।
সুইডেনে জন্ম ও বেড়ে ওঠা ইয়াসিন একসময় তিউনিসিয়ার হয়ে খেলার প্রস্তাব পেলেও শেষ পর্যন্ত সুইডেনকেই প্রতিনিধিত্ব করার সিদ্ধান্ত নেন। তার সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বাবা আজ্জুজ আয়ারি, যিনি ছেলেকে সুইডেনের হয়ে খেলার পরামর্শ দেন, দেশটির অবদান ও সুযোগের কথা বিবেচনা করে।
তিউনিসিয়া জাতীয় দলের কোচ সাবরি লামুশি ইয়াসিনকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় হিসেবে উল্লেখ করে তার সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানান।
তবে মাঠে ইয়াসিন নিজের পারফরম্যান্স দিয়েই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসেন। ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটেই তার গোলে এগিয়ে যায় সুইডেন। বাবার দেশের বিপক্ষে গোল করলেও তিনি উদযাপন সংযত রাখেন এবং পরে সিজদা করে স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
পরে আরও এক গোলের সুযোগ তৈরি করে দেন তিনি, যা থেকে সুইডেনের আরেকটি গোল আসে। ম্যাচের শেষদিকে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত এক শটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন ইয়াসিন।
বাবার দেশের বিপক্ষে বিশ্বকাপ অভিষেকে জোড়া গোল ও একটি অ্যাসিস্টে অবদান রেখে স্মরণীয় এক ম্যাচ উপহার দেন সুইডেনের এই মিডফিল্ডার।

