মোঃ শরিফ বিল্লাহ, ডোমার উপজেলা প্রতিনিধি:
নীলফামারী-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুস সাত্তার সরকার দেশের প্রতিটি উপজেলায় একটি করে মাদ্রাসা সরকারি করার প্রস্তাব দিয়েছেন।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
বক্তব্যে তিনি বলেন, “যেমন বলা হয়েছে, ফখরুল ইসলাম যেমন ইসলাম নন, জামায়াতে ইসলামীও ইসলাম নয়। তাহলে সরকার দেশের সব মাদ্রাসা সরকারি করে প্রমাণ করুক যে তারা ইসলামবান্ধব সরকার।”
তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলায় সরকারি স্কুল ও কলেজ থাকলেও মাদ্রাসা সরকারিকরণের বিষয়ে দৃশ্যমান উদ্যোগ স্পষ্ট নয়। কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি পেলেও মাদ্রাসা সরকারিকরণের বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে তিনি মত দেন।
আব্দুস সাত্তার সরকার বলেন, “বাংলাদেশ মুসলিম অধ্যুষিত দেশ। দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে মুসলমানরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রাক-প্রাথমিক পর্যায় থেকেই নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা দেওয়া হয়। তাই প্রত্যেকটি উপজেলায় একটি করে মাদ্রাসাকে সরকারি করার প্রস্তাব করছি।”
বাজেটের বিভিন্ন দিক নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে নিত্যপণ্যের বাজারে চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজস্ব আদায়ের উচ্চ লক্ষ্যমাত্রার ফলে সাধারণ মানুষের ওপর পরোক্ষ করের চাপ বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। পাশাপাশি কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রাখা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, অর্থনীতিবিদদের মতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখা এবারের বাজেট বাস্তবায়নের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। বাজার অস্থির থাকলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
বাজেট ঘাটতির বিষয়ে তিনি বলেন, বড় ও দীর্ঘস্থায়ী ঘাটতি সুদের হার বাড়াতে পারে, বিনিয়োগ কমিয়ে দিতে পারে এবং সরকার ও করদাতাদের ওপর ঋণের চাপ বৃদ্ধি করতে পারে। এ ঘাটতি পূরণে ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়লে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও বাড়তে পারে।
এমপি আব্দুস সাত্তার সরকার দাবি করেন, বর্তমানে সরকারের মোট ঋণের পরিমাণ ২১ লাখ কোটি টাকার বেশি, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৩৮ দশমিক ৯ থেকে ৪১ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। এছাড়া বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ প্রায় ৭৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

