শাহরিয়ার কবির,উপজেলা প্রতিনিধি:
উন্নয়নের নানা দাবির মাঝেও খুলনার পাইকগাছা উপজেলার সোলাদানা ইউনিয়নের ৮৮ নম্বর টেংরামারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চিত্র একেবারেই ভিন্ন। ভাঙাচোরা ও ঝুঁকিপূর্ণ টিনশেড ভবনে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছে ৬১ জন শিক্ষার্থী ও ৫ জন শিক্ষক।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের টিন ও অ্যাসবেস্টস নির্মিত ভবনের ছাউনি বিভিন্ন স্থানে ফেটে গেছে। কোথাও টিন খুলে পড়ার উপক্রম, আবার কোথাও বাঁশের খুঁটি দিয়ে সাময়িকভাবে ঠেকিয়ে রাখা হয়েছে পুরো কাঠামো। সামান্য বৃষ্টি হলেই শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে পড়ে, ভিজে যায় বই-খাতা, ব্যাহত হয় পাঠদান।
ভবনের দেয়ালে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে, পলেস্তারা খসে পড়ছে এবং ইটের গাঁথুনি দুর্বল হয়ে পড়েছে। বারান্দার অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক, যা যেকোনো সময় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
বিদ্যালয়টি ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও দীর্ঘ সময়েও অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০১৩ সালে জাতীয়করণ করা হলেও এরপরও নতুন ভবন নির্মাণ বা বড় ধরনের সংস্কারের উদ্যোগ চোখে পড়েনি।
স্থানীয় এক অভিভাবক বলেন, “এমন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে সন্তানদের পাঠাতে ভয় লাগে। যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ প্রয়োজন।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অধির কৃষ্ণ মণ্ডল জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভবনটি জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ঝড়-বৃষ্টিতে ছাউনি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে এবং পাঠদান ব্যাহত হয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্জয় দেবনাথ বলেন, বিদ্যালয়ের সমস্যার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। আপাতত দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং নতুন ভবন নির্মাণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বাজেট পাওয়া গেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ শুরু করা হবে।
এলাকাবাসীর দাবি, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত জরাজীর্ণ ভবন সংস্কার অথবা নতুন পাকা ভবন নির্মাণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হোক।

