সত্যজিৎ দাস (মৌলভীবাজার):
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ প্রতিযোগিতায় দুর্দান্ত সাফল্য দেখিয়েছে শ্রীমঙ্গল উপজেলা। ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী খুদে খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতা উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।
ক্রিকেট, ফুটবল, কাবাডি,ব্যাডমিন্টন,সাঁতার ও অ্যাথলেটিক্সসহ নানা ইভেন্টে অংশ নিয়ে শ্রীমঙ্গলের ছেলে-মেয়েরা নিজেদের প্রতিভার ঝলক দেখিয়েছে।
গত ২ মে মৌলভীবাজারের সাইফুর রহমান স্টেডিয়ামে জেলার সব উপজেলার অংশগ্রহণে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এ আয়োজন। পরে ৯ মে শ্রীমঙ্গলসহ জেলার বিভিন্ন ভেন্যুতে ফুটবল,ব্যাডমিন্টন ও সাঁতার ইভেন্টের বিশেষ রাউন্ড অনুষ্ঠিত হয়।
দলগত ইভেন্টে ক্রিকেটে বালক বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে শ্রীমঙ্গল উপজেলা। একইভাবে ফুটবল বালিকা বিভাগেও চ্যাম্পিয়নের গৌরব অর্জন করে শ্রীমঙ্গলের মেয়েরা। অন্যদিকে ফুটবল বালক বিভাগে রানার্স আপ হয়েছে শ্রীমঙ্গল উপজেলা দল।
একক ইভেন্টেও সাফল্যের ধারা অব্যাহত রেখেছে শ্রীমঙ্গলের প্রতিযোগীরা। অ্যাথলেটিক্সের ১০০ মিটার দৌড়ে প্রথম স্থান অর্জন করেছে ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী রোমি শুভ। একই ইভেন্টে তৃতীয় স্থান অর্জন করে নটরডেম স্কুল অ্যান্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী বৃন্তরাজ পাল চৌধুরী। এছাড়া ভুনবীর দশরথ স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী উর্মি রানী সরকার ১০০ ও ২০০ মিটার দৌড়ে প্রথম স্থান অর্জন করে সবার নজর কাড়ে।
উর্মি রানী সরকার বলেন,“এ প্রতিযোগিতায় ভালো ফল করতে পেরে আমি খুব আনন্দিত। ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ে দেশের জন্য খেলতে চাই। শিক্ষক ও পরিবারের সহযোগিতা আমাকে আত্মবিশ্বাস দিয়েছে।”
দাবা ইভেন্টে বালক বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেছে দি বার্ডস রেসি: মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাফয়ান সামী। দ্বিতীয় হয়েছে নটরডেম স্কুল অ্যান্ড কলেজের সৌরদ্বীপ দাশ শ্রেষ্ঠ। বালিকা বিভাগে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে ভুনবীর দশরথ স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবনিত দেব বর্ণা এবং তৃতীয় স্থান লাভ করেছে শহীদ সাজ্জাদ বিজিবি পাবলিক স্কুলের দেবশ্রী কর্মকার।
সাফয়ান সামী বলেন,“দাবা আমার খুব প্রিয় খেলা। নিয়মিত অনুশীলনের ফলেই এই সাফল্য এসেছে। সামনে আরও বড় পর্যায়ে ভালো করার স্বপ্ন দেখি।”
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ জিয়াউর রহমান বলেন,“নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়,এটি ভবিষ্যৎ ক্রীড়াবিদ তৈরির একটি বড় প্ল্যাটফর্ম। শ্রীমঙ্গলের শিশু-কিশোররা যেভাবে সাফল্য অর্জন করেছে,তা আমাদের জন্য গর্বের। তাদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।”
প্রতিযোগিতায় শ্রীমঙ্গলের ধারাবাহিক সাফল্যে অভিভাবক,শিক্ষক ও ক্রীড়াঙ্গনে আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের প্রত্যাশা,এ আয়োজন থেকে ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ের তারকা খেলোয়াড় উঠে আসবে।

