ইবি প্রতিনিধি:
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) তিন দিনব্যাপী আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় অ্যাথলেটিকস (ছাত্র-ছাত্রী) ও বাস্কেটবল (ছাত্র)-২০২৬ উদ্বোধন করা হয়েছে। এবারের আসরে মোট ৩০টি ইভেন্টে দেশের ২১টি বিশ্ববিদ্যালয় অংশ নিচ্ছে। ৪ মে উদ্বোধন হওয়া প্রতিযোগিতা ৫ ও ৬ তারিখ পর্যন্ত চলবে।
আজ সোমবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ’র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এয়াকুব আলী ও ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম। অনুষ্ঠানের গেস্ট অব অনার ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. আব্দুল মজিদ এবং কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন।
জানা গেছে, এবারের আসরে ৩০ টি অ্যাথলেটিক্স ইভেন্টের মধ্যে ছাত্রদের জন্য নির্ধারিত ১৯টি হলো, ১০০, ২০০ ও ৪০০ মিটার স্প্রিন্ট এবং ৮০০, ১৫০০, ৫০০০ এবং ১০,০০০ মিটার দৌড়, বর্শা নিক্ষেপ, গোলক নিক্ষেপ, চাকতি নিক্ষেপ, হ্যামার থ্রো, দীর্ঘ লাফ, উচ্চ লাফ, লাফ ধাপ ঝাঁপ, পোল ভোল্ট, ১১০ ও ৪০০ মিটার হার্ডেলস, ৪ x ১০০ এবং ৪ x ৪০০ রিলে। এছাড়াও ছাত্রীদের জন্য নির্ধারিত ১১টি ইভেন্ট হলো— ১০০, ২০০ ও ৪০০ মিটার স্প্রিন্ট, ১০০ মিটার হার্ভেলস, বর্শা নিক্ষেপ, গোলক নিক্ষেপ, চাকতি নিক্ষেপ, উচ্চ লাফ, দীর্ঘ লাফ, ৪ x ১০০ এবং ৪ x ৪০০ রিলে।
প্রধান অতিথি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তৃণমূল থেকে খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করতে ৩০০-এর বেশি ক্রীড়া কার্ড প্রদান করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে খেলাধুলার আয়োজনের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়েও খেলাধুলাকে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, “জয়-পরাজয় মূল কথা নয়। তরুণ প্রজন্মকে ডিভাইস-আসক্তি থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। পাবলিক থেকে প্রাইভেট, সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রীড়া বিভাগ চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া কর্মকর্তা নিয়োগের মাধ্যমে ক্রীড়াকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। আগামী বছর থেকে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করা হবে এবং প্রতিটি বিদ্যালয়ে ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। আগামীর বাংলাদেশকে শান্তিপূর্ণ করে গড়ে তোলার অন্যতম মাধ্যম হোক খেলাধুলা।
সমাপনীর বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, “আমরা বেলা ১১টায় সময় নির্ধারণ করেছিলাম, কিন্তু প্রধান অতিথির একটু বিলম্বের কারণেই আমরা পেয়ে গেছি এক সুন্দর পরন্ত বিকেল।
মাননীয় প্রতিমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলতে চাই, “বর্তমান সরকারের ক্রীড়া উন্নয়নের যে উদ্যোগ, তা সত্যিই ক্রীড়া ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। তবে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি জিমনেসিয়াম থাকলেও ভেতরে অডিটোরিয়াম নেই, সুইমিং পুল নেই, হোস্টেল নেই। স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগ প্রতিষ্ঠার স্মারকলিপিসহ আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক ক্রীড়া উন্নয়নে আপনার সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।

