শাহরিয়ার কবির, পাইকগাছা (খুলনা):
খুলনার পাইকগাছায় দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের উদ্যোগে গতি এসেছে। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে জানা গেছে।
সোমবার (৪ মে) দুপুরে খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মাওলানা আবুল কালাম আজাদ সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করেন। উপজেলা সদরের টিটিসি সংলগ্ন পাইকগাছা-কয়রা সড়কের পশ্চিম পাশে শিববাটী মৌজায় প্রায় এক একর জমি এ প্রকল্পের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
জানা যায়, পূর্বে সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খালিদ হাসান এ বিষয়ে প্রস্তাবনা পাঠালেও জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় তা বাস্তবায়ন হয়নি। বর্তমানে নতুন করে উদ্যোগ নেওয়ায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
পরিদর্শনকালে এমপি আবুল কালাম আজাদ বলেন, পাইকগাছায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে। দেশে যেসব উপজেলায় এখনো ফায়ার সার্ভিস নেই, সেখানে পর্যায়ক্রমে স্টেশন স্থাপনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী জানান, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে পুনরায় আবেদন পাঠানো হয়েছে এবং দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ চলছে।
পাইকগাছা উপজেলা জেলা শহর থেকে প্রায় ৬৬ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় অগ্নিকাণ্ডের সময় তাৎক্ষণিক সেবা পাওয়া যায় না। বর্তমানে আগুন লাগলে কয়রা, তালা বা আশাশুনি থেকে ফায়ার সার্ভিস পৌঁছাতে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট সময় লাগে, এতে ক্ষয়ক্ষতি বেড়ে যায়।
গত কয়েক বছরে উপজেলায় একাধিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ২০২৩ ও ২০২৪ সালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অপারেশন থিয়েটার, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এবং শিববাটী গ্রামে আগুন লাগে। এছাড়া ২০২৫ ও ২০২৬ সালে বাতিখালী ও গজালিয়া গ্রামে অগ্নিকাণ্ডে বহু বসতঘর পুড়ে যায়।
একই দিনে স্মরণখালী মৌজায় নির্মাণাধীন ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ের বিদ্যুৎ গ্রিড উপকেন্দ্রের জন্য অধিগ্রহণকৃত জমিও পরিদর্শন করেন এমপি। তিনি বলেন, এই প্রকল্প চালু হলে পাইকগাছা ও কয়রা এলাকায় লো-ভোল্টেজ ও বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান হবে।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফজলে রাব্বী, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম অঞ্জন কুমার সরকার, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা একরামুল হোসেন, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সৈকত মল্লিকসহ স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ।
সংশ্লিষ্টদের আশা, দ্রুত সময়ের মধ্যে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপিত হলে অগ্নিকাণ্ডজনিত ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

