ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর–চুনারুঘাট) আসনে ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ইসলামি বক্তা মো. গিয়াস উদ্দিন তাহেরি। সম্প্রতি তার নির্বাচনী হলফনামার কিছু তথ্য নিয়ে সামাজিক ও প্রচারমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে আয়ের একটি খাতে ‘সুদ’ উল্লেখ থাকায় বিষয়টি ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়।
এ বিষয়ে প্রথমবারের মতো মুখ খুলেছেন তাহেরি। তিনি দাবি করেছেন, পুরো বিষয়টি একটি ভুল বোঝাবুঝি এবং কিছু স্বার্থান্বেষী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার বিরুদ্ধে অপতথ্য ছড়িয়েছে।
নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, মো. গিয়াস উদ্দিন তাহেরির মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা। তার আয়ের প্রধান উৎস ব্যবসা ও কৃষি। হলফনামায় তার ওপর নির্ভরশীলদের নামে কোনো সম্পদ দেখানো হয়নি। তাহেরির পেশা ব্যবসা এবং তার স্ত্রী গৃহিণী। সব সম্পদই তাহেরির নিজের নামে রয়েছে; স্ত্রীর নামে কোনো স্থাবর বা অস্থাবর সম্পদ নেই। এছাড়া তাহেরির নিজের নামে ৩১ ভরি স্বর্ণ রয়েছে।
হলফনামা অনুযায়ী, আয়ের খাতগুলো হলো—কৃষি থেকে বছরে ২৬ হাজার ৪০০ টাকা, ব্যবসা থেকে ৭ লাখ ৯১ হাজার টাকা এবং বন্ড, সঞ্চয়, আমানত ও ব্যাংক সুদ থেকে ২২ হাজার ৮৯২ টাকা।
তাহেরি বলেন, “একই কলামে বন্ড, সঞ্চয়পত্র, আমানত ও সুদ সবই একসাথে আছে। আমি কি আলাদা করে শুধু সুদের ওপর টিক চিহ্ন দিয়েছি? যারা বিষয়টি প্রচার করেছে, তারা আমার কাছ থেকে জানতে চায়নি এটি কোন খাত থেকে এসেছে।”
তিনি আরও ব্যাখ্যা দিয়েছেন, “একটা মানুষ তো দেখতে পারে সুদের টাকা জমা হয়েছে। এমনও হতে পারে কেউ সুদের টাকা অন্য কোথাও সওয়াবের আশা না করে দিয়েছেন। এটা আমাকে জিজ্ঞেসও করা হয়নি যে কেন বা কোন প্রেক্ষাপটে এটি জমা হয়েছে। এখানে কিছু মানুষ হয়তো ঈর্ষান্বিত হয়ে আমাকে টার্গেট করেছে।”
তাহেরি নির্বাচন কমিশনের হলফনামার কাঠামো নিয়েও মন্তব্য করেছেন। তার মতে, বন্ড, সঞ্চয়, আমানত ও সুদের জন্য আলাদা আলাদা কলাম থাকলে বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে বোঝা যেত। তিনি বলেন, “যদি আলাদা কলাম থাকত, তাহলে যে কোন প্রেক্ষাপটে এবং উদ্দেশ্যে অর্থ এসেছে, তা পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করা সম্ভব হতো।”
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “এখানে ৪-৫টা বিষয় দেওয়ার পরও কেবল সুদটাই তুলে নিয়ে আলোচনার বিষয় বানানো হয়েছে। আমি এটা বুঝতে পারছি না। ৩০০ আসনের প্রার্থী তো হলফনামায় এটা উল্লেখ করেছেন। আমার মাত্র ২২ হাজার ছিল, অথচ অনেকের ক্ষেত্রে ৫ লক্ষ, ৭০ হাজার, ৯০ হাজার টাকা উল্লেখ আছে। অন্যদের ধরেননি, শুধু আমার টাকাটাই তুলে আনা হয়েছে।”
তাহেরি এই ঘটনার প্রেক্ষিতে জনগণ ও নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের কাছে সঠিক তথ্যের প্রতি সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, সব আয়ের খাত, সম্পদ ও অর্জনের তথ্য নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত ফরম্যাটে যথাযথভাবে দেওয়া হয়েছে এবং কোনো অসামঞ্জস্য নেই।

