মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের মধ্যনগরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকারি তালিকায় অনিয়মের প্রকাশিত নিউজের জেরে এক সাংবাদিককে মুঠোফোনে হুমকি দেয়ায় কতিত সমাজপতিকে দলীয় পদ থেকে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ওই নেতাকে পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে সুনামগঞ্জ জেলা যুবদল।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক শিহাব মিয়া নিজের নিরাপত্তা চেয়ে গতকাল শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেলে মধ্যনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। শিহাব মিয়া জাতীয় দৈনিক ‘এদিন’ পত্রিকার মধ্যনগর উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত।
সূত্রানুযায়ী বিগত ৩০ জুন মধ্যনগর উপজেলা প্রশাসনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে হাওরাঞ্চলে অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত ১ হাজার ৮৯০ জন কৃষকের একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়। তালিকাটি প্রকাশের পর থেকেই সচ্ছল ব্যক্তি, অকৃষক ও একই পরিবারের একাধিক সদস্যের নাম অন্তর্ভুক্ত থাকা নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।
এরই জের ধরে গত রোববার সাংবাদিক শিহাব মিয়া তার নিজ ইউনিয়ন বংশীকুণ্ডা দক্ষিণের ১ নম্বর ওয়ার্ডের (রংচী গ্রাম) ২৪ জন অকৃষক ও সচ্ছল ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত আপত্তি জানান। ওই তালিকায় ১ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. সাদ্দাম মিয়ার পরিবারের একাধিক সদস্য ও স্বজনদের নামও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
সাংবাদিক শিহাব মিয়ার লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে ওই বিতর্কিত ২৪ জনের নাম স্থগিত রেখে অবশিষ্ট প্রকৃত কৃষকদের মাঝে সরকারি সহায়তা বিতরণ শুরু করে। একইসঙ্গে আপত্তিকৃত নামগুলো পুনরায় মাঠপর্যায়ে যাচাই-বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন।
প্রশাসনের এমন পদক্ষেপে ক্ষিপ্ত হয়ে গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে যুবদল নেতা সাদ্দাম মিয়া তার ব্যক্তিগত মুঠোফোন থেকে সাংবাদিক শিহাবকে কল করে হুমকি দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ফোনালাপের অডিও রেকর্ডে সাদ্দামকে বলতে শোনা যায়, তোমার যদি এই গ্রামে থাকা লাগে, তবে এটা শেষ করা লাগবে। না হয় তোমার ঝামেলা হবে। গ্রামে থাকতে গেলে আমার সামনে পড়া লাগব। সামনে পড়লে পরে বুঝিস।
সংবাদকর্মী শিহাব মিয়া বলেন, তালিকায় সাদ্দামের পরিবারের একাধিক সদস্যের নাম রয়েছে, যারা আদতে ক্ষতিগ্রস্থ নন। এই অনিয়মের বিরুদ্ধে জনস্বার্থে আপত্তি তোলায় তিনি আমাকে হুমকি দিয়েছেন। ঘটনার পর থেকে আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
তবে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে যুবদল নেতা সাদ্দাম মিয়া দাবি করেন, সম্পর্কে শিহাব তার ভাতিজা হওয়ায় আবেগের বশে তিনি কিছু কথা বলেছেন, কোনো রাজনৈতিক ক্ষমতাবলে বা অসৎ উদ্দেশ্যে হুমকি দেননি।
এদিকে ঘটনাটি নিয়ে সংবাদমাধ্যমে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টি হলে দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয় জেলা যুবদল। আজ শনিবার (১১ জুলাই) সুনামগঞ্জ জেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আমিনুর রশিদ আমিন ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ কয়েছ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সাদ্দাম হোসেনকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
জেলা যুবদলের সহ-দপ্তর সম্পাদক সামরুল ইসলাম প্রেরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং দলীয় নীতি ও আদর্শ পরিপন্থি কার্যকলাপে লিপ্ত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অব্যাহতি প্রাপ্ত সদস্যের কোনো অপকর্মের দায়-দায়িত্ব সংগঠন নেবে না এবং যুবদলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তার সাথে কোনো প্রকার সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মধ্যনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ কে এম সাহাবুদ্দিন শাহীন জানান, সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নথিভুক্ত করা হয়েছে। ছড়িয়ে পড়া অডিও রেকর্ড ও জিডির বিষয়বস্তু আমলে নিয়ে তদন্তপূর্বক দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

