ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি:
ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য নির্মিত অফিসার্স কোয়ার্টার দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি কোয়ার্টারের একটি বাসার ভেতরে একটি সাপ প্রবেশ করলে সেখানে বসবাসরত কর্মকর্তা ও তার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় সাপটি মারা হয়।
ভুক্তভোগী কর্মকর্তা মো. পিয়াস বিশ্বাস, যিনি চরভদ্রাসন উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয়ে অডিটর হিসেবে কর্মরত, জানান, তিনি গত ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে সরকারি কোয়ার্টারে একটি কক্ষ বরাদ্দের জন্য আবেদন করেন। পরবর্তীতে তাকে দুইটি কক্ষ, একটি বাথরুম ও একটি রান্নাঘরসহ একটি ইউনিট বরাদ্দ দেওয়া হয় এবং এর জন্য মাসিক ৪ হাজার ৫০০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “কোয়ার্টারের রান্নাঘরসহ বিভিন্ন অংশের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। এমন পরিবেশে একটি শিশুর সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠা কঠিন। আমার সন্তানের বয়স মাত্র সাত মাস। আল্লাহ না করুক, যদি সাপটি আমার সন্তানকে কামড় দিত, তাহলে হয়তো সে এই পৃথিবীর সৌন্দর্য দেখার আগেই তার জীবন শেষ হয়ে যেত।”
মো. পিয়াস বিশ্বাস আরও বলেন, সরকারি ভবনের রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের জন্য প্রতি অর্থবছরে সরকার এবং উপজেলা পরিষদ থেকে বরাদ্দ প্রদান করা হয়। এছাড়া অফিসার্স কোয়ার্টারের বাসাভাড়া থেকেও উপজেলা পরিষদের রাজস্ব আয় হয়ে থাকে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, এসব অর্থ ভবনের সংরক্ষণ ও সংস্কারে যথাযথভাবে ব্যয় করা হচ্ছে কি না।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, “উপজেলা পরিষদের আয়ের একটি বড় অংশ আসে বাসাভাড়া থেকে। সেই অর্থ ভবনের উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যবহার হওয়ার কথা। কিন্তু দীর্ঘদিনেও কোয়ার্টারের দৃশ্যমান কোনো সংস্কার কাজ হয়নি। আমার সন্তানের কোনো ক্ষতি হলে এর দায়ভার কে নেবে—এ প্রশ্ন আমি বিবেকবান সমাজের কাছে রেখে গেলাম।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চরভদ্রাসন অফিসার্স কোয়ার্টারের বিভিন্ন ভবনে দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাব রয়েছে। অনেক স্থানে দেয়ালে ফাটল, ছাদের পলেস্তারা খসে পড়া, ঝোপঝাড় এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের কারণে সাপ ও অন্যান্য প্রাণীর উপদ্রব বেড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে চরভদ্রাসন উপজেলা প্রশাসনের বক্তব্য জানতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন কোয়ার্টারে বসবাসরত সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা

