মোঃ ইকরাম হাসান, দাউদকান্দি উপজেলা প্রতিনিধি:
ধর্ষণের পর গর্ভপাত বা ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে পুলিশের পাহারায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলা পশ্চিমের সাবেক সভাপতি জিসান মিয়া প্রধান। তবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন জিসান সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছেন।
পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, মামলার বাদীকে বিয়ে করা এড়ানো এবং আদালতে হাজির হওয়া ঠেকাতে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে চোখ বন্ধ করে অসুস্থতার নাটক সাজিয়ে রেখেছেন।
পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কুমিল্লার দাউদকান্দির এক বিধবা নারীকে ধর্ষণ ও তাঁর ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে জিসান মিয়ার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার বাদী ওই ভুক্তভোগী নারীকে বিয়ে করা থেকে বাঁচতে জিসান নিজেই প্রথমে একটি অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন।
পরবর্তীতে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসে। হাসপাতালে আসার পর শুরুতে তিনি পুলিশের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই কথাবার্তা বলছিলেন। কিন্তু যখনই তিনি জানতে পারেন যে ওই নারীর দায়ের করা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, ঠিক তখন থেকেই তিনি রহস্যজনকভাবে চোখ বন্ধ করে ফেলেন এবং আর চোখ খুলছেন না।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশি পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করেছে যে জিসানের শরীরে কোনো শারীরিক জটিলতা নেই এবং তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। মূলত ধর্ষণের মতো গুরুতর মামলায় আইনি প্রক্রিয়া ও আদালতে সোপর্দ হওয়া বিলম্বিত করতেই তিনি এই কৌশল বেছে নিয়েছেন বলে ধারণা করছে পুলিশ। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে পুলিশের নজরদারির মধ্যে আছেন।

