নরসিংদী ক্রাইম রিপোর্টার:
নরসিংদীর পলাশ উপজেলার চরসিন্দুর ইউনিয়নের চলন এলাকায় অবস্থিত চরমাধবদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন পরিচালনা কমিটি (এসএমসি) গঠনকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
বিদ্যালয়ের জমিদাতা, সাবেক সভাপতি এবং সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন, তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা বা মতবিনিময় ছাড়াই একতরফাভাবে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মরহুম ডা. ইসরাফিল কাজীর উদ্যোগে ২০১৩ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়ের জন্য জমি প্রদানকারী ও দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের উন্নয়নে সহযোগিতা করে আসা ব্যক্তিদের দাবি, নতুন কমিটি গঠনের আগে তাদের মতামত নেওয়া তো দূরের কথা, বিষয়টি সম্পর্কেও অবহিত করা হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসরিন আক্তার নিজস্ব পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়ে পরিচালনা কমিটি গঠন করেছেন। নতুন কমিটির সভাপতি হিসেবে মনোনীত ব্যক্তি অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনের সময় জামায়াতপন্থী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে স্থানীয়ভাবে পরিচিত।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক নাসরিন আক্তার বলেন, “সভাপতি হিসেবে যাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে। অপরদিকে সাবেক সভাপতিকে প্রয়োজনের সময় পাওয়া যায়নি। তাই বিধি অনুযায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে।”
তবে এ বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি মো. কাজী মাহফুজুল হক বলেন, “আমি টানা দুই মেয়াদে বিদ্যালয়ের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছি এবং বিদ্যালয়ের প্রয়োজনে সবসময় পাশে থেকেছি।
কিন্তু এবার কোনো সভা বা আলোচনা ছাড়াই কমিটি গঠন করা হয়েছে। জমিদাতাদের মধ্যে অনেক শিক্ষিত ও যোগ্য ব্যক্তি থাকা সত্ত্বেও তাদের কাউকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।”
তিনি আরও বলেন, “জমিদাতাদের না জানিয়ে কমিটি গঠন করা নিয়মসঙ্গত নয়। আমরা বিদ্যালয়ের জমিদাতা হয়েও পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে কিছুই জানি না। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থী সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়েও যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না।”
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন জমিদাতা ও অংশীজনও অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যালয়ের স্বার্থে সকল পক্ষের মতামতের ভিত্তিতে একটি স্বচ্ছ, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক পরিচালনা কমিটি গঠন করা উচিত ছিল। একতরফা সিদ্ধান্তের কারণে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জুলেখা শারমিনের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তবে সংশ্লিষ্টদের দাবি, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে বিদ্যালয়ের পরিচালনা কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ ও গতিশীল হবে।

