সত্যজিৎ দাস (মৌলভীবাজার):
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের ভাড়াউড়া হাইল হাওর থেকে একটি অজগর সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) সকাল ১০টার দিকে স্থানীয়দের সহায়তায় বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের কর্মীরা সাপটি উদ্ধার করে শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,নবীন ও জাবেদ নামের দুই ব্যক্তি হাইল হাওরে মাছ ধরতে গেলে তাদের ব্যবহৃত জালে একটি বড় সাপ আটকা পড়তে দেখেন। সাপটি দেখে আতঙ্কিত হয়ে তারা জাল ফেলে সেখান থেকে সরে যান। পরে বিষয়টি সাবেক চেয়ারম্যান সোনা মিয়ার নাতি কয়েছ আহমেদের নজরে আনলে তিনি বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
খবর পেয়ে ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল এবং পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাপটিকে অজগর হিসেবে শনাক্ত করেন। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টার পর তারা সাপটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হন। পরে সেটিকে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল জানান,অজগর বিষধর নয়। তারা শিকারকে পেঁচিয়ে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এবং পরে সম্পূর্ণ গিলে খায়। অজগরের প্রধান খাদ্যের মধ্যে রয়েছে ইঁদুর, কাঠবিড়ালি, খরগোশ, মেছো বিড়াল, বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, হাঁস-মুরগি এবং ছোট সরীসৃপ। বড় আকারের অজগর হরিণের শাবক, বুনো শূকর কিংবা ছাগলের মতো প্রাণীকেও শিকার করতে পারে।
পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ বলেন, শ্রীমঙ্গলের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ও আশপাশের বনাঞ্চলে সাধারণত বার্মিজ অজগর ও রেটিকুলেটেড অজগর প্রজাতি দেখা যায়। এসব অজগরের বেশিরভাগই ১০ থেকে ১৫ ফুট লম্বা এবং ১৫ থেকে ২৫ কেজি ওজনের হয়ে থাকে। প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংকুচিত হওয়া কিংবা খাদ্যের সন্ধানে অনেক সময় তারা চা-বাগান,লোকালয় ও খামার এলাকায় চলে আসে।
তিনি আরও বলেন,অজগর সাধারণত নির্জনপ্রিয়, নিশাচর ও শান্ত স্বভাবের প্রাণী। তবে হুমকি অনুভব করলে তারা আত্মরক্ষামূলক আচরণ করতে পারে। দিনের বেলায় গাছের গর্ত,ঝোপঝাড় বা পাথরের খাঁজে আশ্রয় নেয় এবং রাতে শিকারের সন্ধানে বের হয়। এরা দক্ষ সাঁতারু এবং জলাশয়ের আশপাশে ওত পেতে শিকার ধরতে অভ্যস্ত।
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা অজগরসহ যেকোনো বন্যপ্রাণী দেখলে আতঙ্কিত না হয়ে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা উদ্ধারকারী সংস্থাকে খবর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

