দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর মিছিল কোনোভাবেই থামছে না। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশজুড়ে এই ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭টি নিষ্পাপ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া প্রাদুর্ভাবে হাম ও এর উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৩৮ জনে।
আজ রবিবার (৫ জুলাই ২০২৬) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে দেশের হাম পরিস্থিতির এই উদ্বেগজনক তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোট মৃতের সংখ্যার বড় একটি অংশই ল্যাব টেস্টের বাইরে থাকা উপসর্গের রোগী। পরিসংখ্যানটি নিচে দেওয়া হলো:
ল্যাবরেটরি টেস্টের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া হাম রোগীর মৃত্যুর সংখ্যা ৯৩ জন।
হামের সুনির্দিষ্ট উপসর্গ (তীব্র জ্বর, শরীরে গুটি বা র্যাশ, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্ট) নিয়ে মারা গেছে আরও ৬৪৫ জন।
সংক্রমণ ১ লাখ ছাড়াল
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১০৬ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হামের জীবাণু শনাক্ত হয়েছে। এর ফলে ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৬৩২ জনে।
অন্যদিকে, ভাইরাসের বিস্তার যে কতটা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে, তা বোঝা যায় সন্দেহভাজন রোগীর তালিকায়। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৯২৫ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী রিপোর্ট করা হয়েছে। এ নিয়ে গত পৌনে চার মাসে দেশে মোট সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৫ হাজার ৬১৮ জনে গিয়ে ঠেকেছে।
লক্ষণীয় যে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত শিশুদের শ্বাসনালী ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আক্রমণ করে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা শিশুদের সুরক্ষায় অবিলম্বে নিম্নলিখিত পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন:
টিকাদান নিশ্চিতকরণ: ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সী শিশুদের যথাসময়ে এমআর (Measles-Rubella) টিকা দেওয়া নিশ্চিত করতে হবে।
শিশুর শরীরে তীব্র জ্বর ও লালচে দানা বা র্যাশ দেখা দিলে কোনো রকম অবহেলা বা কবিরাজি চিকিৎসা না করিয়ে নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে নিতে হবে।
আক্রান্ত শিশুকে অন্য শিশুদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা (আইসোলেশনে) রাখা এবং পুষ্টিকর তরল খাবার ও ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়ানো জরুরি।
দেশজুড়ে দ্রুত ছড়াতে থাকা এই মহামারি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও মাঠ প্রশাসনের পক্ষ থেকে টিকাদান জোরদারসহ বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

