সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে দোকানে ঝাল মুড়ি কিনতে গেলে কানে স্বর্ণের দুল দেখে লোভ সামলাতে না পেরে ফারজানা সুলতানা (৯) নামে তৃতীয় শ্রেণীর এক স্কুল ছাত্রীকে অপহরণের পর গলা কেটে হত্যা করেছে। খোঁজ পেয়ে উত্তেজিত জনতা ঘাতক সুমাইয়া খাতুন নামে ঝালমুড়ি বিক্রেতাকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করেছে।
সোমবার (২০ জুলাই) রাত ৯ টার দিকে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা ইউনিয়নের কাজলা কাশিবাটি গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটে বলে জানা যায়।
নিহত স্কুলছাত্রী কাজলা কাশিবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর মেধাবী ছাত্রী ও কাজলা কাশিবাটি গ্রামের আব্দুল লতিফের মেয়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত স্কুল ছাত্রী সকালে স্কুলে যেয়ে ক্লাসরুমে ব্যাগ রেখে সামনে সুমাইয়ার ঝাল মুড়ির দোকানে যায় ঝাল মুড়ি কিনতে। ওই সময় ফারজানার কানে দু’টি স্বর্ণের দুল দেখে লোভ সামলাতে না পেরে প্রথমে মুখ চেপে ধরে অপহরণ করে পাশেই তার বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে সেখানে প্রথমে স্কুলছাত্রী ফারজানার হাত পা বেঁধে ওয়ারড্রপের মধ্যে লুকিয়ে রাখে।
পরবর্তীতে তাকে জবাই করে হত্যা করে ওয়ারড্রপের মধ্যেই লুকিয়ে রেখে দেয়। এদিকে সুমাইয়ার কোন খোঁজ না পেয়ে বাবা মা সহ পরিবারের লোকজন ও এলাকাবাসী এলাকায় মাইকিং সহ সাংবাদিকদের শরণাপন্ন হয়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিখোঁজের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।সোমবার সন্ধ্যা ৭ টার দিকে এলাকাবাসীর সন্দেহ হলে ঝাল মুড়ি বিক্রেতা সুমাইয়ার ঘর তল্লাশি করতে গেলে বাঁধা দেয়। ওই সময় পুলিশের উপস্থিতিতে উত্তেজিত জনতা ঘর তল্লাশি করে ওয়ার ড্রপের মধ্যে লুকিয়ে রাখা গলাকাটা স্কুল ছাত্রী ফারজানার লাশ দেখতে পায়। এই খবরে হাজার হাজার উত্তেজিত জনতা ঝালমুড়ি বিক্রেতা সুমাইয়াকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে লাশ দু,টি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
এ ব্যাপারে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ শহিদুল ইসলাম জানান হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি তদন্তাধীন আছে। এলাকায় বর্তমান চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

