সাজ্জাদ হোসেন, টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইল মির্জাপুরে মা ও শিশুর লাশ উদ্ধার। ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের গুঞ্জন, তদন্তের দাবি। গত ২০ এপ্রিল ২০২৬, সোমবার মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কি ইউনিয়নের গুনাটিয়া এলাকায় লৌহজং নদীর তীর থেকে এক গর্ভবতী নারী ও শিশুর বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মাটিচাপা অবস্থায় উদ্ধার হওয়া এই লাশ দুটির পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় পুলিশ সেগুলোকে ‘বেওয়ারিশ’ হিসেবে দাফন সম্পন্ন করেছে।
লাশ উদ্ধারের পর থেকেই এলাকা জুড়ে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রের বরাতে গুঞ্জন উঠেছে যে, নিহত নারী ধর্ষণের শিকার হয়ে থাকতে পারেন অতঃপর অত্যন্ত নৃশংসভাবে পেট থেকে বাচ্চা বের করে মা ও শিশু উভয়কেই হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর প্রমাণ লোপাট করতে লাশ দুটি বস্তাবন্দী করে নদীর তীরে মাটিচাপা দেওয়া হয়।
এই পৈশাচিক ঘটনার বিচার নিশ্চিত করতে সচেতন নাগরিক সমাজ ও স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাকে (PBI/CID) দিয়ে এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করতে হবে। ডিএনএ টেস্ট বা আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ওই নারী ও শিশুর পরিচয় দ্রুত শনাক্ত করা প্রয়োজন। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং নৃশংসতার ধরন নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্তের স্বচ্ছ রিপোর্ট জনসম্মুখে আনা জরুরি। যদি এটি হত্যাকাণ্ড হয়ে থাকে, তবে এর সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
মির্জাপুর থানা পুলিশ বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে দেখছে বলে জানা গেলেও, সাধারণ মানুষের মাঝে এখনো আতঙ্ক বিরাজ করছে। একটি ডাবল মার্ডার কেস এভাবে ‘বেওয়ারিশ’ হিসেবে ধামাচাপা পড়ে গেলে তা অপরাধীদের আরও উৎসাহিত করবে। জনস্বার্থে এই ঘটনার রহস্য উন্মোচন হওয়া এখন সময়ের দাবি।

