নুরী আক্তার মুন, ডেস্ক রিপোর্ট :
একই তাপমাত্রা কারও কাছে স্বাভাবিক মনে হলেও অন্যরা গরমে দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়েন। শরীর ঘামা, মাথা ঘোরা কিংবা অস্বস্তি বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু আবহাওয়া নয়, শরীরের ভেতরের কিছু স্বাস্থ্যগত কারণও গরম সহ্য করার সক্ষমতাকে প্রভাবিত করে।
শরীর স্বাভাবিকভাবে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে গরম বেশি অনুভূত হয়। এ ক্ষেত্রে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক অবস্থা বিশেষভাবে প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে থাইরয়েডের সমস্যার মধ্যে হাইপারথাইরয়েডিজমে মেটাবলিজম বেড়ে যায়, ফলে শরীরে অতিরিক্ত তাপ তৈরি হয় এবং ঘামও বেশি হয়।
ডায়াবেটিস থাকলে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা দেখা দেয়, যা স্নায়ু ও ঘামগ্রন্থির কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করে। এতে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যাহত হয়।
হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপের ক্ষেত্রে রক্তসঞ্চালন স্বাভাবিক না থাকায় শরীরের তাপ ছড়িয়ে পড়া বাধাগ্রস্ত হয়, ফলে গরমে অস্বস্তি বাড়ে। অতিরিক্ত ওজন থাকলে শরীরে জমে থাকা চর্বি তাপ ধরে রাখে, এতে শরীর সহজে ঠান্ডা হতে পারে না এবং দ্রুত ক্লান্তি দেখা দেয়।
রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়ার কারণে শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায়, ফলে দুর্বলতা, মাথা ঘোরা ও গরমে অস্বস্তি বৃদ্ধি পায়। নারীদের ক্ষেত্রে হরমোনজনিত পরিবর্তন, বিশেষ করে মেনোপজের সময় ‘হট ফ্ল্যাশ, গর্ভাবস্থা বা মাসিক চক্রের ওঠানামা, তাপমাত্রা সহনশীলতা কমিয়ে দিতে পারে।
শরীরে পানিশূন্যতা হলে ঘাম কমে যায়, ফলে স্বাভাবিক শীতল হওয়ার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি কিছু ওষুধও তাপ সহনশীলতা কমিয়ে গরমে ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গরমে এসব সমস্যায় আক্রান্তদের বাড়তি সতর্কতা জরুরি। পর্যাপ্ত পানি পান, রোদ এড়িয়ে চলা, ঢিলেঢালা পোশাক পরা এবং অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
তবে গরমে অস্বাভাবিক দুর্বলতা, মাথা ঘোরা বা অতিরিক্ত ঘাম দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

