সুলতান মাহমুদ, দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ
দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার পাল্টাপুর ইউনিয়নের সেনগ্রাম এলাকার মাধবেরঘাটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি ড্রেজার জব্দ করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। এ ঘটনায় থানায় নিয়মিত মামলা দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার বীরগঞ্জ নির্বাহী কর্মকর্তা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোমা খাতুন সত্যতা স্বীকার করে বলেন,গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকেল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সরেজমিন অভিযান পরিচালনা করেন ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও বীরগঞ্জ সহকারী কমিশনার (ভূমি) দীপঙ্কর বর্মন। অভিযানে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের সত্যতা পাওয়ায় ড্রেজারটি জব্দ করা হয়।
অভিযানকালে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি টের পেয়ে ড্রেজারের চালক ও সহকারীরা মেশিন ফেলে পালিয়ে যায়। পরে জব্দকৃত ড্রেজারটি স্থানীয় ইউপি সদস্য সোহেল রানার জিম্মায় রাখা হয়।
এ ঘটনায় পাল্টাপুর ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা আব্দুল মান্নানকে থানায় নিয়মিত মামলা দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জব্দ অভিযানের সময় উপস্থিত ছিলেন পাল্টাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. তহিদুল ইসলাম, উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার আবুল কাশেম, বীরগঞ্জ থানার পুলিশ সদস্যসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
এদিকে, অভিযুক্ত হিসেবে উঠে আসা খানসামা উপজেলার ভাবকী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা মো. রবিউল ইসলাম তুহিনের প্রতিনিধি পরিচয়দানকারী ম্যানেজার সায়েম দাবি করেন, খানসামা উপজেলার আগ্রা এলাকায় বালু উত্তোলনের ইজারা রয়েছে এবং সেখানেই ড্রেজার ব্যবহারের অনুমতি আছে। তবে চেয়ারম্যানের নির্দেশে আত্রাই নদীতে ড্রেজার চালানো হয়েছে বলেও তিনি জানান।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে বীরগঞ্জ উপজেলার সীমানায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চালিয়ে আসছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে নদীর দুই তীরের মন্দির, শ্মশান, বসতবাড়ি, মসজিদ, সড়ক ও আবাদি জমি হুমকির মুখে পড়েছে। এছাড়া পূর্বে ড্রেজিংয়ের ফলে সৃষ্ট গর্তে পড়ে দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে বলে তারা জানান। স্থানীয় বাসিন্দা বিকাশ চন্দ্র রায় অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে দীর্ঘদিন ধরে কোটি কোটি টাকার বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
অভিযুক্ত চেয়ারম্যান মো. রবিউল ইসলাম তুহিন মুঠোফোনে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের কথা স্বীকার করে বলেন, সীমানা নির্ধারণ না থাকায় এ ধরনের জটিলতা তৈরি হয়েছে।
পাল্টাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. তহিদুল ইসলাম বলেন, যেখান থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল, সেটি মূলত বীরগঞ্জ উপজেলার মাধবঘাট এলাকা। পাল্টাপুর ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান জানান, সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর নির্দেশনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দীপঙ্কর বর্মন বলেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসনের নির্দেশে কঠোর নজরদারি শুরু হয়েছে এবং অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।

