ইরাক থেকে সিরিয়া হয়ে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর কাছে উন্নত অস্ত্র পাচারের অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদি। এ অভিযোগ খতিয়ে দেখতে সিরিয়া সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছে বাগদাদ।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানায়, ইরাক-সিরিয়া সীমান্ত ব্যবহার করে অস্ত্র পাচারের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করবে ওই কমিটি।
ইরাকের জয়েন্ট অপারেশনস কমান্ড (জেওসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সীমান্ত নিরাপত্তায় কোনো ধরনের অবহেলা বা দায়িত্বে গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং জাতীয় নিরাপত্তাবিরোধী তৎপরতা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
এর আগে সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানা জানায়, দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী সিরিয়া-ইরাক সীমান্তে উন্নত অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্রের একটি চালান জব্দ করেছে। সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্রের দাবি, এসব অস্ত্র লেবাননের হিজবুল্লাহর কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে পাচার করা হচ্ছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জব্দ করা অস্ত্রের মধ্যে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, ট্যাংকবিধ্বংসী নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনও ছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরাক বর্তমানে একদিকে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সঙ্গেও কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করছে। এই প্রেক্ষাপটে সীমান্তপথে অস্ত্র পাচারের অভিযোগে তদন্ত শুরু করা বাগদাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ।
মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক গবেষক হায়দার আল-শাকেরির মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে ইরাকি সরকার আন্তর্জাতিক মহল, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রকে দেখাতে চাইছে যে সীমান্তপথে সক্রিয় সশস্ত্র নেটওয়ার্কগুলোর ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ জোরদারে তারা আন্তরিক। তবে এটি কেবল প্রতীকী পদক্ষেপ নাকি দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত পরিবর্তনের সূচনা, তা নির্ভর করবে তদন্তের ফলাফল ও পরবর্তী আইনি ব্যবস্থার ওপর।

