বাংলাদেশের সাংবিধানিক রাজনীতিতে আবারও বড় ধরনের রদবদলের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শিগগিরই পদত্যাগ করতে পারেন বলে উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে তিনি পদে ইস্তফা দিতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২৩ সালের এপ্রিলে দায়িত্ব নেওয়া রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে ইতিমধ্যে ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) উচ্চপর্যায় থেকে সরে দাঁড়ানোর বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। একই সঙ্গে বঙ্গভবন ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁর উত্তরসূরি নিয়ে জোরালো আলোচনা শুরু হয়েছে।
বঙ্গভবনকেন্দ্রিক একটি সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি নিজে তাঁর অধস্তন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শিগগিরই বঙ্গভবন ছেড়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর তিনি কিছুদিন বিশ্রামে থাকবেন এবং চিকিৎসার উদ্দেশ্যে বিদেশ সফর করতে পারেন বলে জানা গেছে।
যদিও এ বিষয়ে গতকাল পর্যন্ত বঙ্গভবন বা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবে সরকারের নীতি নির্ধারণী মহলে এ নিয়ে তৎপরতা তুঙ্গে।
নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বিস্তর আলোচনা চলছে।
নতুন মুখের সম্ভাবনা: এর আগে রাষ্ট্রপতি পদের জন্য বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খানসহ একাধিক বর্ষীয়ান নেতার নাম আলোচনায় থাকলেও, সম্প্রতি সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্বে থাকা এক সচিবের নাম হঠাৎ করেই প্রথম সারিতে চলে এসেছে। তাঁর প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও বিশেষ মূল্যায়নের ভিত্তিতেই এই নাম ভাবা হচ্ছে।
খন্দকার মোশাররফ হোসেনের প্রতিক্রিয়া: বিষয়টি নিয়ে জানতে চাওয়া হলে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানান, এ বিষয়ে তিনি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানেন না। তিনি বলেন, “যদি এমন কিছু ঘটে (রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ), তবে শূন্য পদের জন্য একাধিক নাম আলোচনায় আসা খুবই স্বাভাবিক।”
সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশ্যে নিজ স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন।
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি: মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করলে সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার সাময়িকভাবে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: স্পিকারের দায়িত্ব পালনের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্যদের সরাসরি ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।
যেহেতু নতুন রাষ্ট্রপতির মেয়াদকালেই পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনের পথরেখা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নির্ভর করছে, তাই নতুন রাষ্ট্রপতির আসনে কে বসছেন—তা দেশের সার্বিক রাজনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

