এস কে রাসেল, দৌলতপুর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি:
মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২০০ পুড়িয়া হেরোইনসহ এক মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত হেরোইনের মোট ওজন ২২ দশমিক ০৫ গ্রাম, যার আনুমানিক অবৈধ বাজারমূল্য প্রায় ৮০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে দৌলতপুর বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে দৌলতপুর থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি উপজেলার রামচন্দ্রপুর মোল্লাপাড়া এলাকার আরশেদ আলী মোল্লার ছেলে মো. সুবল হোসেন (৪৩)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দৌলতপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সাইফুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে মোবাইল ডিউটিতে থাকা অবস্থায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন, উপজেলা পরিষদের সামনে যাত্রী ছাউনির পাশে ওয়ালটন শোরুম সংলগ্ন সড়কে এক ব্যক্তি মাদক বিক্রির উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে। খবর পেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্দেহভাজন ব্যক্তি দ্রুত সরে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাকে আটক করা হয়। পরে স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে তল্লাশি চালিয়ে তার বাম পায়ের অ্যাংলেটের ভেতরে বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা সাদা পলিথিন মোড়ানো ২০০ পুড়িয়া হেরোইন উদ্ধার করা হয়।
ঘটনাস্থলেই ডিজিটাল ওজন মাপার যন্ত্রের সাহায্যে উদ্ধারকৃত মাদকের ওজন নির্ধারণ করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে জব্দ তালিকা প্রস্তুত করা হয় এবং রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য পাঁচ পুড়িয়া হেরোইন নমুনা হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে দৌলতপুরের বিভিন্ন এলাকায় হেরোইন সরবরাহ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় এসআই মো. সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ৮(খ) ধারায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলার এফআইআর নম্বর-৩ এবং জিআর নম্বর-৮০।
মামলার তদন্তভার দৌলতপুর থানার সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) মো. নুরুল ইসলামের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্বপন কুমার সরকার বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পুলিশের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। দৌলতপুর উপজেলাকে মাদকমুক্ত রাখতে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনো ব্যক্তি বা চক্র মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি মাদক নির্মূলে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও প্রয়োজন। জনগণের তথ্য ও সহযোগিতার ভিত্তিতেই আমরা আরও কার্যকরভাবে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করতে পারব।
পুলিশ জানিয়েছে, এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে মাদক নিয়ন্ত্রণে দৌলতপুর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

