সুলতান মাহমুদ,দিনাজপুর :
দিনাজপুরের বিভিন্ন এলাকায় পেট্রোল ও ডিজেলের সংকটের কারণে লিচু বাগানে প্রয়োজনীয় স্প্রে কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ফলে চাষিরা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে, আর সময়মতো পরিচর্যা না হওয়ায় লিচুর ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
চাষিরা বলছেন, দ্রুত পেট্রোল সরবরাহ নিশ্চিত না হলে শুধু লিচুই নয়, পুরো মৌসুমের ফলন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সরেজমিনে দিনাজপুরের মাসিমপুর ও উলিপুরসহ বিভিন্ন লিচু বাগান এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ চাষিই স্প্রে মেশিন চালাতে না পেরে বিকল্প হিসেবে পায়ে চালিত মেশিন ব্যবহার করছেন। এতে সময় ও শ্রম যেমন বাড়ছে, তেমনি খরচও বেড়ে যাচ্ছে কয়েকগুণ। প্রচণ্ড খরার মধ্যে গাছের গুটি বড় হওয়ার এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে যথাসময়ে পানি ও কীটনাশক প্রয়োগ না করতে পারায় চাষিদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
উলিপুর এলাকার লিচু চাষি আবু বক্কর বলেন, গত কয়েকদিনের তীব্র গরমে প্রতিদিনই বাগানে স্প্রে করতে হচ্ছে। কিন্তু পেট্রোলের অভাবে মেশিন চালাতে পারছি না। দুইদিন লাইনে দাঁড়িয়ে মাত্র ৩০০ টাকার পেট্রোল পেয়েছিলাম, যা এক ঘণ্টাও টেকেনি। এতে কয়েকটি গাছ স্প্রে করতেই পেট্রোল শেষ হয়ে যায়। এই অবস্থায় আমরা খুবই আতঙ্কে আছি।
একই গ্রামের আরেক চাষি মহেন্দ্রনাথ জানান, আমার দুটি বাগানে শতাধিক গাছ রয়েছে। পেট্রোল না পাওয়ায় মেশিন চালাতে পারছি না। বাধ্য হয়ে পায়ে চালিত মেশিন ব্যবহার করছি। প্রচণ্ড রোদে কিছুক্ষণ কাজ করলেই শরীর ভেঙে পড়ে। সময়মতো স্প্রে করতে না পারলে লিচু নষ্ট হয়ে যাবে—এই চিন্তায় আমরা দিশেহারা।
ধেদার মোড় এলাকার চাষি মাসুদ রানা বলেন, এই সময় লিচুর গাছে ভিটামিন ও কীটনাশক স্প্রে করা খুব জরুরি। কিন্তু পেট্রোল সংকটের কারণে অনেকেই তা করতে পারছেন না। এতে লিচু মোটা ও স্বাস্থ্যবান হবে না, ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
একই এলাকার আরেক চাষি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “আমরা পাম্পে জারকিন নিয়ে গেলেও পেট্রোল দিতে চায় না। অনেক সময় মেশিন নিয়ে গেলেও তেল পাওয়া যায় না। এতে বাগানের কাজ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। যদি দ্রুত এই সমস্যা সমাধান না হয়, তাহলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।
শিকদার হাট এলকার চাষি রফিকুল ইসলাম জানান, “লিচুর গুটি এখন বড় হচ্ছে। এই সময়টায় একদিন স্প্রে মিস করলেই পোকার আক্রমণ বেড়ে যায়। পায়ে চালিত মেশিন দিয়ে পুরো বাগান করা প্রায় অসম্ভব। শ্রমিকও পাওয়া যাচ্ছে না, ফলে আমরা চরম সংকটে পড়েছি।
দিনাজপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাসুম তুষার বলেন, “কৃষকদের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রত্যয়নপত্র প্রদান করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী পাম্প মালিকদেরও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে কৃষকেরা প্রয়োজনীয় পেট্রোল ও ডিজেল পেতে পারেন। মাঠ পর্যায়ে আমাদের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কাজ করছেন, দ্রুত সবার হাতে প্রত্যয়নপত্র পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। কেউ সমস্যায় পড়লে কৃষি অফিসে যোগাযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

