মোঃ হামিদুর রহমান লিমন, ক্রাইম রিপোর্টারঃ
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তকে কেন্দ্র করে মানবপাচার চক্রের তৎপরতা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যে উঠে এসেছে। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোকে ব্যবহার করে সংঘবদ্ধ মানবপাচারকারী সিন্ডিকেট অবৈধভাবে মানুষ পারাপার করানোর পাশাপাশি বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদেরও পালিয়ে যেতে সহায়তা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নারী, পুরুষ ও তরুণদের কাজের প্রলোভন দেখিয়ে সীমান্ত এলাকায় নিয়ে আসা হয়। পরে দালাল চক্রের মাধ্যমে তাদের অবৈধভাবে সীমান্ত পার করে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হয়। অনেক ক্ষেত্রে পাচারের শিকার ব্যক্তিরা প্রতারণা, নির্যাতন ও অর্থনৈতিক শোষণের মুখোমুখি হন।
স্থানীয় সূত্র ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে জানা গেছে, সীমান্ত এলাকায় কয়েকটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে। এসব চক্রে পরিবহন শ্রমিক, দালাল এবং স্থানীয় সহযোগীদের একটি নেটওয়ার্ক কাজ করে। তারা সীমান্তের বিভিন্ন অনুপ্রবেশ পথ ব্যবহার করে অবৈধ পারাপারের ব্যবস্থা করে থাকে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, মানবপাচার রোধে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। একই সঙ্গে পাচারকারী চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সীমান্তে দায়িত্বপ্রাপ্ত বাহিনীগুলো নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে পাচারকারী ও অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের আটক করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মানবপাচার একটি আন্তর্জাতিক অপরাধ। দারিদ্র্য, বেকারত্ব, সচেতনতার অভাব এবং দ্রুত অর্থ উপার্জনের প্রলোভনকে কাজে লাগিয়ে পাচারকারীরা তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে। তাই শুধু আইন প্রয়োগ নয়, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সীমান্ত এলাকায় সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলাও জরুরি।
তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা অটোরিকশা চালকের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা আদালতের যাচাইকৃত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে অভিযোগ প্রকাশের আগে তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা প্রয়োজন বলে সাংবাদিকতা নীতিমালায় উল্লেখ রয়েছে।
মানবপাচার ও অবৈধ সীমান্ত পারাপার রোধে সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং স্থানীয় জনগণের সমন্বিত উদ্যোগই হতে পারে এই অপরাধ দমনের কার্যকর উপায়।

