আবু জাফর বিশ্বাস, বরিশাল প্রতিনিধি:
বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতাল এখন রোগীর অতিরিক্ত চাপ, চিকিৎসক সংকট ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতায় কার্যত নাজুক অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় এক কোটি মানুষের চিকিৎসার অন্যতম ভরসাস্থল এই হাসপাতালে শয্যার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকায় মেঝে, বারান্দা ও চলাচলের পথেও রোগীদের চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৫০০ শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন ভর্তি থাকছে প্রায় ২ হাজার ৫০০ রোগী। এছাড়া বহির্বিভাগে প্রতিদিন আরও প্রায় ৩ হাজার ৫০০ রোগী চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন। ফলে চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে চরম হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক ও নার্সদের।
বিশেষ করে শিশু বিভাগে সংকট সবচেয়ে বেশি। ৭০ শয্যার বিভাগে বর্তমানে প্রায় ৩৫০ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। অতিরিক্ত রোগীর কারণে অনেক অভিভাবককে সন্তান নিয়ে মেঝেতে অবস্থান করতে দেখা গেছে।
চিকিৎসক সংকটও দিন দিন প্রকট হচ্ছে। অনুমোদিত ৩২৩টি চিকিৎসক পদের মধ্যে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ২২৯ জন। শূন্য রয়েছে ৯৪টি পদ। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে।
অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও সহকারী অধ্যাপকের মোট ২৪৮টি পদের মধ্যে ১৪৬টি পদই খালি রয়েছে।
এদিকে টেকনোলজিস্টের অভাবে প্যাথলজি সেবাও ব্যাহত হচ্ছে। ২৪ ঘণ্টা ল্যাব চালু রাখতে প্রয়োজন ১৮ জন টেকনোলজিস্ট হলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৮ জন। ফলে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকলেও সেগুলোর পূর্ণ ব্যবহার সম্ভব হচ্ছে না।
হাসপাতালে মাত্র ১০ শয্যার আইসিসিইউ থাকলেও নেই সংকটাপন্ন রোগীদের জন্য ‘ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন’ (সিসিএম) ইউনিট। একই সঙ্গে হৃদরোগীদের এনজিওগ্রামের জন্য প্রয়োজনীয় ক্যাথল্যাব না থাকায় রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকামুখী হতে হচ্ছে। এতে ভোগান্তি ও চিকিৎসা ব্যয় দুটোই বাড়ছে।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. একেএম মশিউল মুনীর বলেন, সীমিত জনবল ও পুরোনো অবকাঠামোর মধ্যেও সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। ক্যাথল্যাব স্থাপনের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং সংকট নিরসনে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা হচ্ছে।

