নুরী আক্তার মুন, ডেস্ক রিপোর্ট :
বাঙালির ঐতিহ্যবাহী খাবারের অন্যতম পান্তা ভাত গরমের সময়ে বিশেষ জনপ্রিয় একটি খাদ্য। বিশেষ করে পহেলা বৈশাখে পান্তা-ইলিশ বাঙালির সাংস্কৃতিক আয়োজনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত।
একসময় গ্রামবাংলার কৃষকদের সকালের প্রধান খাবার ছিল পান্তা ভাত। সরিষার তেল, পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ, লবণ ও ভাজা মাছের সঙ্গে এই খাবার আজও অনেক পরিবারের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় স্থান পায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গরমে পান্তা ভাত শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে এবং এতে রয়েছে একাধিক স্বাস্থ্য উপকারিতা। এতে আয়রনের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বৃদ্ধি পায়, যা রক্তশূন্যতা কমাতে সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি এতে উপকারী ব্যাকটেরিয়া তৈরি হয়, যা হজমশক্তি উন্নত করতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

এ খাবারে পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও ক্যালসিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদানও থাকে। সাধারণ ভাতের তুলনায় পান্তা ভাতে চর্বির পরিমাণ কম থাকায় এটি ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।
পুষ্টিবিদদের মতে, পান্তা ভাতে আয়রন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, জিঙ্ক, ফসফরাস, ভিটামিন বি-৬ ও বি-১২ এর মতো মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট পাওয়া যায়, যা শরীরের জন্য উপকারী। কেউ কেউ এটিকে প্রাকৃতিক শীতলকারী খাবার হিসেবেও বিবেচনা করেন, যা গরমে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
তাই গরমের দিনে সকালে পান্তা ভাত শুধু ঐতিহ্য নয়, বরং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসেরও একটি অংশ হয়ে উঠতে পারে।


