দিনাজপুর প্রতিনিধি :
দীর্ঘ ১৬ বছর পর পুনরায় চালু হয়েছে পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের বহুল প্রতীক্ষিত বৃত্তি পরীক্ষা।
বুধবার (আজ) সকাল ১০টা থেকে দেশের বিভিন্ন কেন্দ্রে উৎসবমুখর পরিবেশে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়, যা চলে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত।
দিনাজপুরের বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, নির্ধারিত সময়ের আগেই অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের নিয়ে কেন্দ্রে উপস্থিত হন।
দীর্ঘ বিরতির পর এ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশ নিতে পেরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। কেন্দ্রগুলোতে ছিল শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ এবং অভিভাবকদের উপস্থিতিতে সৃষ্টি হয় এক ধরনের উৎসবের আমেজ।
নিয়মিতভাবে এ ধরনের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা চালু থাকলে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
অভিভাবক আসাদুজ্জামান সাজু বলেন, “দীর্ঘদিন পর বৃত্তি পরীক্ষা চালু হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন করে প্রতিযোগিতার মনোভাব সৃষ্টি হয়েছে। এতে তারা পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হবে বলে আশা করছি।” তিনি আরও বলেন, এই পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাইয়ের একটি কার্যকর সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা শিক্ষা ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।
দিনাজপুর চেহেলগাজী আনন্দ নিকেতন উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ কেন্দ্রের সচিব শাকিল আহমেদ জানান, দীর্ঘ বিরতির পর বৃত্তি পরীক্ষা পুনরায় চালু হওয়ায় শিক্ষক সমাজও আনন্দিত। আড়াই ঘণ্টাব্যাপী ১০০ নম্বরের এই পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা শান্ত ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে অংশগ্রহণ করেছে।
পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলে, “আমি খুব আনন্দিত। এত বড় পরীক্ষায় অংশ নিতে পেরে ভালো লাগছে। প্রশ্নগুলোও মোটামুটি সহজ ছিল।
আরেক পরীক্ষার্থী তাসনিম জাহান জানায়, আমি অনেকদিন ধরেই প্রস্তুতি নিয়েছি। বৃত্তি পাওয়ার স্বপ্ন আছে। পরীক্ষা দিতে পেরে আত্মবিশ্বাস বেড়েছে।
দিনাজপুর প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এবিএম শাজাহান সিদ্দিকী বলেন, দিনাজপুর জেলার ১৩ টি উপজেলায় ১৫ হাজার ৩২১ জন বৃত্তি পরীক্ষার্থী পরীক্ষা অংশগ্রহণ করেছেন।

