তৌহিদুর রহমান, শেরপুর প্রতিনিধি:
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে নকল বীজ ধান ব্যবহার করে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন সদর ও নলকুড়া ইউনিয়নের প্রায় দেড় শতাধিক কৃষক।
অভিযোগ অনুযায়ী, উচ্চ ফলনশীল ব্রি-৯৬ হাইব্রিড ধানের মোড়কে ভিন্ন ও নিম্নমানের বীজ সরবরাহ করা হয়েছে। এতে অন্তত ৬০ থেকে ৭০ একর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ভুক্তভোগী কৃষকদের দাবি, স্থানীয় দুই বীজ বিক্রয় প্রতিষ্ঠান—মেসার্স নুরুল এন্টারপ্রাইজ এবং মেসার্স সাব্বির বীজ ভাণ্ডার থেকে “মিরন সিড কোম্পানি”-এর নামে এই বীজ কেনা হয়। পরে দেখা যায়, ধান গাছে শীষ না এসে অনেক ক্ষেতেই গাছ শুকিয়ে যাচ্ছে।
কৃষকরা জানান, এক একরে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ করে তারা আবাদ করেছিলেন, কিন্তু এখন ফসল নষ্ট হওয়ার পথে। একজন কৃষক আরশাদুল হক বলেন, “লাভের আশায় আবাদ করেছিলাম, এখন সব শেষ হয়ে যাচ্ছে।”
আরেক কৃষক নওশেদ আলী জানান, ঋণ করে আবাদ করলেও এখন কোনো ফলন পাওয়ার আশা নেই, ফলে ঋণ পরিশোধ নিয়েও অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা।
অন্যদিকে অভিযুক্ত দুই বীজ ব্যবসায়ী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তারা অনুমোদিত বীজই বিক্রি করেছেন এবং সমস্যা কৃষকের চাষাবাদ পদ্ধতিগত ত্রুটির কারণে হতে পারে।
মিরন সিড কোম্পানির আঞ্চলিক বিপণন কর্মকর্তা আবদুল লতিফ জানিয়েছেন, বিষয়টি তারা তদন্ত করে দেখছেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে কৃষকদের দেওয়া বীজ মানসম্মত ছিল না। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা দ্রুত সরকারি ক্ষতিপূরণ ও দায়ীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

