Bangla FM
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • বিশ্ব
  • সারাদেশ
  • বিনোদন
  • খেলাধুলা
  • কলাম
  • ভিডিও
  • অর্থনীতি
  • ক্যাম্পাস
  • আইন ও আদালত
  • প্রবাস
  • বিজ্ঞান প্রযুক্তি
  • মতামত
  • লাইফস্টাইল
No Result
View All Result
Bangla FM

রিমঝিম বৃষ্টির দিনে

Bangla FM OnlinebyBangla FM Online
১:৩২ pm ১০, জুলাই ২০২৬
in Semi Lead News, মতামত
A A
0
রিমঝিম বৃষ্টির দিনে

রিমঝিম বৃষ্টির দিনে

বর্ষা: রিমঝিম বৃষ্টির দিনে
অ আ আবীর আকাশ

১.
বাংলাদেশ ছয় ঋতুর দেশ। প্রতিটি ঋতুরই আলাদা সৌন্দর্য, আলাদা রূপ আর আলাদা আনন্দ আছে। তবে শিশুকিশোরদের কাছে সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ঋতুগুলোর একটি হলো বর্ষা। গ্রীষ্মের প্রচণ্ড রোদ, ধুলাবালি আর তপ্ত বাতাসের পর যখন আকাশে কালো মেঘ জমে, দূরে বিদ্যুতের ঝলকানি দেখা যায়, তখন মনে হয় প্রকৃতি যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে। একটু পরেই টুপটাপ করে বৃষ্টি নামে। সেই টুপটাপ বৃষ্টি ধীরে ধীরে রিমঝিম সুরে ঝরতে থাকে। কখনো আবার দিনভর ঝুম বৃষ্টি। চারদিকে শুধু বৃষ্টির শব্দ, মাটির গন্ধ আর সবুজের সমারোহ।

বর্ষা এলেই গ্রামের চেহারা একেবারে বদলে যায়। মাঠের ফসল, গাছের পাতা, বাঁশঝাড়, নদী, খাল, বিল সব যেন ধুয়ে-মুছে নতুন হয়ে ওঠে। আকাশজুড়ে ঘন কালো মেঘ ভেসে বেড়ায়। কখনো মেঘের ফাঁক দিয়ে একটু রোদের হাসি, আবার মুহূর্তেই মেঘে ঢেকে যায় চারদিক। দূরের তালগাছের মাথা বাতাসে দুলতে থাকে। নারকেল গাছের পাতায় বৃষ্টির ফোঁটা পড়ে ঝংকার তোলে। টিনের চালের ওপর বৃষ্টির টুপটাপ শব্দ যেন প্রকৃতির নিজের বাজানো এক অপূর্ব সংগীত।

বর্ষা মানেই কাশফুলের শুভ্র হাসি। নদীর ধারে কিংবা চরাঞ্চলে বাতাসে দুলতে থাকা কাশফুল দূর থেকে সাদা মেঘের মতো লাগে। কেয়া ফুলের মিষ্টি গন্ধ ভেসে আসে বাতাসে। কদম ফুল গোল গোল সোনালি-সাদা রূপ নিয়ে বৃষ্টিভেজা ডালে ফুটে থাকে। গন্ধরাজ ফুলের স্নিগ্ধ সুবাস সন্ধ্যার বাতাসকে আরও মধুর করে তোলে। ফুলগুলো যেন বর্ষাকে বরণ করে নেওয়ার জন্যই ফুটে ওঠে। শিশুরা কদম ফুল হাতে নিয়ে খেলতে ভালোবাসে। অনেকেই গন্ধরাজ ফুল ঘরে এনে পানিভর্তি বাটিতে রেখে দেয়। তখন পুরো ঘর সুগন্ধে ভরে ওঠে।

বৃষ্টি শুধু মানুষকে আনন্দ দেয় না, প্রকৃতির প্রতিটি প্রাণীকেও নতুন জীবন দেয়। দীর্ঘ খরার পর শুকিয়ে যাওয়া ঘাস আবার সবুজ হয়ে ওঠে। ছোট ছোট গাছে নতুন পাতা গজায়। ব্যাঙেরা আনন্দে ডাকতে শুরু করে। পুকুরে মাছেরা লাফিয়ে ওঠে। মাঠে মাঠে শামুক বেরিয়ে আসে। ফড়িং উড়ে বেড়ায়। প্রকৃতির প্রতিটি প্রাণ যেন বর্ষাকে স্বাগত জানায়।

কিন্তু বর্ষায় পাখিদের জীবন সব সময় সহজ নয়। ঝুম বৃষ্টি শুরু হলে ছোট ছোট পাখিরা দ্রুত নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে নেয়। কেউ বড় গাছের ঘন পাতার আড়ালে লুকায়, কেউ বাঁশঝাড়ে বসে থাকে, আবার কেউ ঘরের কার্নিশ, চালার নিচে কিংবা কোটরে আশ্রয় নেয়। অনেক পাখি বাসা এমনভাবে বানায় যাতে বৃষ্টির পানি সহজে ঢুকতে না পারে। বাবুই পাখির ঝুলন্ত বাসা তার সুন্দর পরিকল্পনার জন্য বিখ্যাত। দোয়েল, শালিক, চড়ুই, বুলবুলি, টুনটুনি কিংবা কোকিল প্রত্যেকেই নিজের মতো করে বৃষ্টির সঙ্গে মানিয়ে নিতে শেখে।

পাখিদের সবচেয়ে বড় চিন্তা থাকে তাদের ছোট ছোট ছানাদের নিয়ে। মা-পাখি নিজের ডানা মেলে ছানাদের ঢেকে রাখে। বৃষ্টির ফোঁটা যাতে ছানাদের গায়ে না লাগে, সে জন্য অনেকক্ষণ না খেয়েও বাসায় বসে থাকে। বাবা-পাখি একটু বৃষ্টি কমলেই দ্রুত খাবারের খোঁজে বের হয়। কখনো ছোট পোকামাকড়, কখনো কেঁচো, কখনো ধানের দানা কিংবা ফল সংগ্রহ করে নিয়ে আসে। অনেক সময় ঝড়বৃষ্টির কারণে খাবার সংগ্রহ করতে তাদের বেশ কষ্ট হয়। তবুও তারা হাল ছাড়ে না। কারণ ক্ষুধার্ত ছানারা বাসায় মুখ খুলে অপেক্ষা করে থাকে।

বৃষ্টির পরে মাটিতে কেঁচো, পোকামাকড় আর ছোট ছোট প্রাণী বেশি বেরিয়ে আসে। এ সময় অনেক পাখি সহজে খাবার পায়। বকেরা ধানক্ষেতে দাঁড়িয়ে ছোট মাছ আর ব্যাঙ ধরে। মাছরাঙা পানিতে ঝাঁপ দিয়ে মাছ ধরে আনে। শালিক ও দোয়েল ভেজা মাটিতে ঠোঁট দিয়ে পোকা খুঁজে বেড়ায়। প্রকৃতি যেন তাদের জন্যও খাবারের ব্যবস্থা করে রাখে।

বর্ষার আরেকটি মজার দৃশ্য হলো বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়া পাখিদের ডানা ঝাড়া। বৃষ্টি থেমে গেলে তারা গাছের ডালে বসে ডানা মেলে রোদে শুকায়। কেউ ঠোঁট দিয়ে পালক পরিষ্কার করে, কেউ আবার আনন্দে গান গায়। মনে হয়, তারাও বৃষ্টির উৎসব শেষ করে নতুন দিনের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে।

শিশুরা বর্ষাকে অন্য চোখে দেখে। জানালার পাশে বসে বৃষ্টি দেখা, উঠোনে জমে থাকা পানিতে কাগজের নৌকা ভাসানো, বৃষ্টির ফোঁটা গোনা কিংবা মেঘের গর্জন শুনে চমকে ওঠা, সবই তাদের কাছে আনন্দের। তবে বড়রা সব সময় সাবধান করে দেয়, বজ্রপাত হলে বাইরে যাওয়া যাবে না, গভীর পানিতে নামা যাবে না। কারণ বর্ষা যেমন সুন্দর, তেমনি অসাবধান হলে বিপদের কারণও হতে পারে।

বর্ষা আমাদের শেখায়, প্রকৃতির সঙ্গে মিলেমিশে বাঁচতে হয়। গাছ, ফুল, পাখি, নদী, খাল, বিল, মানুষ, সবাই মিলে একটি সুন্দর পৃথিবী গড়ে তোলে। বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটা শুধু মাটি ভেজায় না, মানুষের মনও সজীব করে তোলে। আর সেই সজীবতার গল্পই বর্ষার গল্প, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে শিশুমনে আনন্দ, কৌতূহল আর ভালোবাসার বীজ বপন করে চলেছে।

২.
বর্ষা যেমন প্রকৃতিকে নতুন রূপে সাজিয়ে তোলে, তেমনি মানুষের জীবনেও নিয়ে আসে নানা অভিজ্ঞতা। এখনকার মতো তখন সবার ঘরে ছাতা ছিল না। গ্রামের কাঁচা রাস্তা, সরু বাঁশের সাঁকো, কাদামাখা পথ আর খাল-বিল পেরিয়েই শিশুদের স্কুলে যেতে হতো। বৃষ্টি শুরু হলে পথ আরও কঠিন হয়ে যেত। কিন্তু সেই কষ্টের মাঝেও ছিল এক অদ্ভুত আনন্দ, যা আজও স্মৃতির পাতায় অমলিন হয়ে আছে।

ভোরবেলা ঘুম ভাঙতেই শোনা যেত টিনের চালের ওপর বৃষ্টির টুপটাপ শব্দ। জানালা খুলে দেখা যেত, চারদিকে শুধু পানি আর পানি। আকাশ কালো মেঘে ঢাকা। দূরের গাছপালা ঝাপসা হয়ে আছে। উঠোনে হাঁটুসমান পানি জমেছে। মা বলতেন, “আজ এত বৃষ্টি, স্কুলে যাবে কীভাবে?” কিন্তু স্কুলে না গেলে পড়া পিছিয়ে যাবে। তাই আমরা বই-খাতা পলিথিনে মুড়ে প্রস্তুত হয়ে যেতাম।

তখন প্লাস্টিকের রেইনকোট ছিল না। গ্রামের সহজ সমাধান ছিল কলাপাতা কিংবা বড় কচুপাতা। বড় একটি কলাপাতা মাথায় ধরলে অনেকটা ছাতার কাজ করত। কেউ কচুপাতা ব্যবহার করত। বৃষ্টির ফোঁটা পাতার ওপর পড়ে টুপটাপ করে গড়িয়ে পড়ত। দূর থেকে দেখলে মনে হতো, ছোট ছোট সবুজ ছাতা নিয়ে একদল শিশু স্কুলের পথে হাঁটছে।

রাস্তার দুই পাশে ছিল ধানক্ষেত। বর্ষার পানিতে ক্ষেতগুলো ছোট ছোট হ্রদের মতো হয়ে যেত। কোথাও কোথাও শাপলা ফুটে থাকত। সাদা বক দাঁড়িয়ে মাছ ধরত। ব্যাঙের ডাক, ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দ আর বৃষ্টির সুর মিলে এক অপূর্ব পরিবেশ তৈরি করত। আমরা বন্ধুদের সঙ্গে হাঁটতে হাঁটতে গল্প করতাম। কখনো পা কাদায় আটকে যেত, কখনো পিছলে পড়ে হাসাহাসি হতো। তবুও স্কুলে যাওয়ার আনন্দ কমত না।

আমাদের পথে একটি বাঁশের সাঁকো ছিল। নিচে বর্ষার পানিতে ফুলে ওঠা খাল। শুকনো মৌসুমে খালটি ছোট হলেও বর্ষায় তার রূপ বদলে যেত। পানির স্রোত বেড়ে যেত, খাল ভরে উঠত। সাঁকো পার হওয়ার সময় খুব সাবধানে হাঁটতে হতো। বাঁশ ভিজে থাকায় পা পিছলে যাওয়ার ভয় ছিল সব সময়।

একদিন এমনই এক বর্ষার সকালে আমরা কয়েকজন বন্ধু স্কুলে যাচ্ছিলাম। আকাশ থেকে অবিরাম বৃষ্টি ঝরছে। হাতে কলাপাতা, কাঁধে বইয়ের পোটলা। সাঁকোর মাঝখানে পৌঁছাতেই হঠাৎ আমার পা পিছলে গেল। মুহূর্তের মধ্যে আমি নিচের খালে পড়ে গেলাম।

ঠান্ডা পানিতে পড়ে প্রথমে খুব ভয় পেয়েছিলাম। স্রোত আমাকে একটু দূরে নিয়ে যেতে চাইল। কিন্তু ছোটবেলা থেকেই সাঁতার জানতাম। তাই সাহস হারাইনি। হাত-পা চালিয়ে ধীরে ধীরে পাড়ের দিকে এগিয়ে এলাম। বন্ধুরা সবাই চিৎকার করছিল। কেউ দৌড়ে বড়দের খবর দিতে গেল।

আমি নিরাপদে উঠে এলেও একটি বড় বিপদ তখনও রয়ে গেছে। পলিথিনে মোড়ানো আমার বইয়ের পোটলাটি পানির স্রোতে ভেসে গেছে। আমি অসহায় চোখে তাকিয়ে দেখলাম, বইগুলো ধীরে ধীরে দূরে চলে যাচ্ছে। বুকের ভেতর কেমন হাহাকার করে উঠল। কারণ তখন নতুন বই পাওয়া সহজ ছিল না। একটি বই হারিয়ে গেলে আবার কিনে দেওয়ার সামর্থ্যও অনেক পরিবারের ছিল না।

গ্রামের কয়েকজন বড় ভাই খালের ধারে দৌড়ে গেলেন। অনেক খোঁজাখুঁজির পর এক জায়গায় ভাসতে থাকা বইয়ের পোটলাটি দেখতে পেলেন। লম্বা বাঁশ দিয়ে টেনে সেটি তুলে আনলেন। পলিথিন থাকায় বেশির ভাগ বই রক্ষা পেলেও কিছু খাতা ভিজে গিয়েছিল। তবুও বইগুলো ফিরে পাওয়ার আনন্দ ছিল ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।

সেদিন ভেজা কাপড়েই স্কুলে পৌঁছেছিলাম। সহপাঠীরা আমাকে ঘিরে ধরেছিল। কেউ শুকনো কাপড় এনে দিল, কেউ বেঞ্চে বসতে সাহায্য করল। শিক্ষকও স্নেহভরে বললেন, “বই বেঁচে গেছে, এটাই সবচেয়ে বড় কথা। ভবিষ্যতে আরও সাবধানে চলবে।”

কিছু বই ভিজে যাওয়ায় কয়েক দিন বন্ধুদের বই দেখে পড়তে হয়েছিল। একজন বন্ধু বাংলা বই দিল, আরেকজন অঙ্কের বই। টিফিনের সময় সবাই মিলে পড়া মিলিয়ে নিতাম। তখন বুঝেছিলাম, বন্ধুত্ব শুধু একসঙ্গে খেলার জন্য নয়, বিপদের সময় পাশে দাঁড়ানোর জন্যও।

বর্ষার দিনগুলো তাই শুধু কষ্টের স্মৃতি নয়, সহযোগিতা, সাহস আর অধ্যবসায়েরও স্মৃতি। প্রকৃতির প্রতিকূলতার মধ্যেও পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়নি। একটু কষ্ট হয়েছে, একটু ভয় পেয়েছি, কিন্তু শেখার আগ্রহ আমাদের থামাতে পারেনি।

আজ সময় বদলেছে। অনেক গ্রামে পাকা রাস্তা হয়েছে, সেতু হয়েছে, শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে ছাতা, রেইনকোট, স্কুলবাসের সুবিধাও। তবু সেই কলাপাতা মাথায় দিয়ে বৃষ্টির মধ্যে স্কুলে যাওয়ার দিনগুলো, ভেজা পথ, কাদামাখা পা, আর সাঁকো থেকে পড়ে গিয়ে বই হারানোর সেই ঘটনা আজও হৃদয়ের গভীরে এক অমূল্য স্মৃতি হয়ে রয়ে গেছে।।

৩.
বর্ষা শুধু একটি ঋতুর নাম নয়, এটি আমাদের জীবনের এক অনন্য শিক্ষক। এই ঋতু মানুষকে ধৈর্য, সাহস, পরিশ্রম এবং প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা শেখায়। বৃষ্টির ফোঁটা যেমন শুকনো মাটিকে সজীব করে তোলে, তেমনি মানুষের মনকেও কোমল ও উদার করে। ছোটবেলার বর্ষার দিনগুলোর দিকে ফিরে তাকালে মনে হয়, কষ্ট ছিল, কিন্তু সেই কষ্টের মধ্যেই ছিল আনন্দ, শিক্ষা আর অমূল্য স্মৃতি।

বর্ষার দিনে গ্রামের মানুষ একে অন্যের পাশে দাঁড়াত। কারও বাড়ির উঠোনে পানি ঢুকলে প্রতিবেশীরা সাহায্য করত। কেউ বাঁধ মেরামত করত, কেউ নৌকা নিয়ে অসুস্থ মানুষকে হাসপাতালে পৌঁছে দিত। কোথাও রাস্তা ভেঙে গেলে গ্রামের তরুণেরা মিলে অস্থায়ী বাঁশের সাঁকো তৈরি করত। তখন বুঝতাম, মানুষ একা নয়। বিপদের সময় সবাই মিলে কাজ করলে কঠিন সমস্যাও সহজ হয়ে যায়।

কৃষকের কাছে বর্ষা আশীর্বাদের মতো। বৃষ্টির পানিতে জমি উর্বর হয়, ধানের চারা বেড়ে ওঠে, পুকুর-খাল-বিল পানিতে ভরে যায়। জেলেরা নদীতে মাছ ধরতে যায়। গরু-ছাগল সবুজ ঘাস পায়। গাছপালা নতুন প্রাণ ফিরে পায়। তবে অতিরিক্ত বৃষ্টি হলে বন্যা হয়, ফসল নষ্ট হয়, মানুষের কষ্ট বাড়ে। তাই বর্ষা আমাদের শেখায়, প্রকৃতির প্রতিটি দানকে সম্মান করতে হবে এবং তার শক্তিকেও শ্রদ্ধা করতে হবে।

শৈশবের সেই সাঁকো থেকে পড়ে যাওয়ার ঘটনাটি আজও আমার মনে ভাসে। তখন মনে হয়েছিল, বুঝি সব শেষ। কিন্তু সাহস হারাইনি। সাঁতার কেটে উঠে এসেছিলাম। পরে অনেকের সহযোগিতায় বইও ফিরে পেয়েছিলাম। সেই দিনের অভিজ্ঞতা আমাকে শিখিয়েছে, জীবনে বিপদ আসবেই, কিন্তু ধৈর্য ও সাহস থাকলে এবং মানুষের সাহায্য পেলে সেই বিপদ অতিক্রম করা যায়।

আজকের শিশুরা হয়তো আর কলাপাতা বা কচুপাতা মাথায় দিয়ে স্কুলে যায় না। তারা রঙিন ছাতা, রেইনকোট কিংবা পাকা সড়কের সুবিধা পায়। অনেক স্কুলে যানবাহনের ব্যবস্থাও রয়েছে। প্রযুক্তির যুগে পড়াশোনার অনেক নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। কিন্তু প্রকৃতির সঙ্গে যে গভীর সম্পর্ক আমাদের শৈশবে ছিল, তা যেন ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। অনেক শিশু জানেই না, বৃষ্টির পরে মাটির গন্ধ কেন এত মধুর লাগে, কিংবা কদম ফুলের সৌন্দর্য কতটা মন ভরিয়ে দিতে পারে।

আমাদের উচিত শিশুদের প্রকৃতির আরও কাছে নিয়ে যাওয়া। তাদের গাছ চিনতে শেখানো, পাখির ডাক শুনতে শেখানো, বর্ষার ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে শেখানো। অবশ্যই নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে তাদের প্রকৃতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে। কারণ প্রকৃতিকে ভালোবাসতে শিখলে মানুষ পরিবেশ রক্ষার গুরুত্বও বুঝতে শেখে।

বর্তমান সময়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেও বর্ষার স্বাভাবিক ছন্দ বদলে যাচ্ছে। কখনো অতিবৃষ্টি, কখনো দীর্ঘ খরা, কখনো আকস্মিক বন্যা মানুষের জীবনকে কঠিন করে তুলছে। তাই নদী-খাল দখল না করা, গাছ লাগানো, জলাভূমি রক্ষা করা এবং পরিবেশ দূষণ কমানো আমাদের সবার দায়িত্ব। প্রকৃতিকে রক্ষা করতে পারলেই বর্ষা তার চিরচেনা সৌন্দর্য নিয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসবে।

বর্ষার প্রতিটি দিন যেন একটি গল্প। কোথাও কাগজের নৌকা ভাসানোর আনন্দ, কোথাও জানালার পাশে বসে বৃষ্টি দেখার শান্তি, কোথাও আবার কাদা মাড়িয়ে স্কুলে যাওয়ার সংগ্রাম। এই ছোট ছোট ঘটনাগুলোই জীবনের বড় শিক্ষা হয়ে থাকে। শিশুমনে যে সাহস, কৌতূহল, সহমর্মিতা ও অধ্যবসায়ের বীজ রোপণ হয়, তা বড় হয়ে একজন ভালো মানুষ গড়ে তুলতে সাহায্য করে।

আজও যখন আকাশে কালো মেঘ জমে, টিনের চালে বৃষ্টির শব্দ ওঠে, কিংবা বাতাসে কদম ও গন্ধরাজের সুবাস ভেসে আসে, তখন মনে পড়ে যায় সেই শৈশব। মনে পড়ে কলাপাতা মাথায় দিয়ে স্কুলে যাওয়া, কাদামাখা পথ, বন্ধুদের হাসি, সাঁকোর ওপর সাবধানে হাঁটা, আর খালের স্রোতে ভেসে যাওয়া বইয়ের পোটলা। সেই স্মৃতিগুলো আজ আর কষ্টের নয়, বরং জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ।

বর্ষা আমাদের শিখিয়েছে, জীবনের পথে ঝড়-বৃষ্টি আসবেই। কখনো পথ পিচ্ছিল হবে, কখনো স্রোত বইবে, কখনো প্রিয় কিছু হারিয়ে যাবে। কিন্তু সাহস, পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং মানুষের প্রতি বিশ্বাস থাকলে আবার নতুন করে পথ চলা যায়। ঠিক যেমন বৃষ্টির পরে আকাশে রংধনু ওঠে, তেমনি প্রতিটি দুঃসময়ের পরই আসে নতুন সম্ভাবনার আলো।

তাই বর্ষাকে শুধু ভেজা দিনের ঋতু হিসেবে নয়, জীবনের এক মহান শিক্ষক হিসেবে মনে রাখা উচিত। রিমঝিম বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, প্রকৃতিকে ভালোবাসতে হবে, মানুষকে ভালোবাসতে হবে এবং প্রতিকূলতার মধ্যেও স্বপ্ন দেখা কখনো থামানো যাবে না। এই শিক্ষা নিয়েই বড় হবে আজকের শিশুরা, আর তারাই গড়ে তুলবে আগামী দিনের সুন্দর, সবুজ ও মানবিক বাংলাদেশ।

___________

অ আ আবীর আকাশ
সাহিত্যিক সাংবাদিক ও লোকসাহিত্য গবেষক

Tags: রিমঝিম বৃষ্টির দিনে
ShareTweetPin

সর্বশেষ সংবাদ

  • শক্তিশালী টাইফুন ‘বাভি’র আঘাতের ঝুঁকিতে জাপানের দ্বীপপুঞ্জ
  • “পুটলা চাইনা, গাঙ্গ ঠেকান”
  • বান্দরবানে বিদ্যুতের তারে গাছ পড়ে আতঙ্ক, ইউপি সদস্য মোরশেদুল আলমের উদ্যোগে বিপদমুক্ত রোয়াংছড়ি
  • নওগাঁয় ৫ বছরের শিশু ধর্ষণচেষ্টার মামলার আসামি গ্রেপ্তার
  • বাঙ্গালহালিয়ায় সেনাবাহিনীর উদ্যােগে ড্রেন পরিস্কারে স্বস্তি ফিরেছে

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

বাংলা এফ এম , বাসা-১৬৪/১, রাস্তা-৩, মোহাম্মদিয়া হাউজিং লিমিটেড, মোহাম্মদপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ

ফোন:  +৮৮ ০১৯১৩-৪০৯৬১৬
ইমেইল: banglafm@bangla.fm

  • বাংলা এফএম সম্পর্কে
  • বাংলা এফএম অনলাইন সম্পর্কে
  • গোপনীয়তার নীতি
  • ব্যবহারের শর্তাবলী

© ২০২৬ বাংলা এফ এম

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In

Add New Playlist

No Result
View All Result
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • বিশ্ব
  • সারাদেশ
  • বিনোদন
  • খেলাধুলা
  • প্রবাস
  • ভিডিও
  • কলাম
  • অর্থনীতি
  • লাইফস্টাইল
  • ক্যাম্পাস
  • আইন ও আদালত
  • চাকুরি
  • অপরাধ
  • বিজ্ঞান প্রযুক্তি
  • ফটোগ্যালারি
  • ফিচার
  • মতামত
  • শিল্প-সাহিত্য
  • সম্পাদকীয়

© ২০২৬ বাংলা এফ এম