যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে তীব্র সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি ও শেয়ারবাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষিতে অপরিশোধিত তেলের দাম হঠাৎ করেই ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে, পাশাপাশি এশিয়ার প্রধান শেয়ারবাজারগুলোতে দরপতন লক্ষ্য করা গেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, দক্ষিণ ইরানে মার্কিন বিমান হামলার পর এবং এর জবাবে বিভিন্ন অঞ্চলে ইরানের পাল্টা হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়ে যায় এবং ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে সরে আসার প্রবণতা দেখা দেয়।
এ পরিস্থিতিতে এশিয়ার শেয়ারবাজারে উল্লেখযোগ্য পতন ঘটে। জাপানের নিক্কেই সূচক কমে যায় প্রায় ১ শতাংশ, আর দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচকে দেখা যায় প্রায় ২ শতাংশ পর্যন্ত পতন।
অন্যদিকে জ্বালানি বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডসহ প্রধান তেলের দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও বিস্তৃত হওয়ার শঙ্কাই এই ঊর্ধ্বগতির প্রধান কারণ।
তেলের আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯০ ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামো ও গুরুত্বপূর্ণ নৌরুটে প্রভাব পড়তে পারে, যা তেলের দামে আরও বড় ধরনের ওঠানামার ঝুঁকি তৈরি করবে।
বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক বাজারে নতুন করে মূল্যস্ফীতি চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মূল্যস্ফীতি প্রতিবেদনের দিকেও নজর রাখছেন আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা। অর্থনীতিবিদদের ধারণা, চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব মার্কিন অর্থনীতির পরিসংখ্যানে প্রতিফলিত হতে পারে।

