স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ :
ময়মনসিংহে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তোলা একটি ছবি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিকৃত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে নটরডেম কলেজ, ময়মনসিংহ শাখার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক ও শিক্ষা অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, সম্প্রতি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রথম স্থান অর্জনকারী বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী সাবা ইসলাম বর্ণের আঁকা নজরুলের প্রতিকৃতি গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী। সেই মূল ছবিকে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্পাদনা করে নিজের ছবি সংযোজন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করার অভিযোগ উঠেছে নটরডেম কলেজ ময়মনসিংহের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মোঃ সাহাবি হাসানের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষার্থীটির সম্পাদিত ছবিটি নটরডেম কলেজ ময়মনসিংহের ফেসবুক পেজসহ বিভিন্ন পেজ ও গ্রুপ থেকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে নেটিজেনদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয় এবং বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেকেই।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সাবা ইসলামের মা মুসলিমা খাতুন বলেন, “ছেলেটি যদি নিজের আইডিতে ব্যক্তিগতভাবে পোস্ট করত, তাহলে হয়তো আমরা প্রতিক্রিয়া দেখাতাম না। কিন্তু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পেজ থেকে এআই দিয়ে বিকৃত ছবি ছড়িয়ে দেওয়া শিশুদের ভুল পথে উৎসাহিত করার শামিল।”
চিত্রশিল্পী ও ময়মনসিংহ জেলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক তাপস মজুমদার বলেন, “নটরডেম কলেজ ময়মনসিংহের শিক্ষকদের বিষয়টি অবহিত করেছি। এআই দিয়ে তৈরি এ ধরনের ছবি নেটিজেনদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করেছে। প্রকৃত শিল্পী হতে হলে সৃজনশীলতা ও সততা থাকতে হয়, নকল কোনো শিল্পচর্চার অংশ হতে পারে না।”
বিষয়টি নিয়ে নটরডেম কলেজ ময়মনসিংহের ওয়েবসাইটে দেওয়া নাম্বারে একাধিকবার কল দিলে সাংবাদিক পরিচয় শোনার পর কোন কথা না বলেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। তবে অভিযোগ ওঠার পর সংশ্লিষ্ট পোস্টটি পেজ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ময়মনসিংহের সচেতন নাগরিক মহল জানায় , “এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর ছবি ছড়িয়ে দেওয়া অনৈতিক ও অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। কোনো শিল্পীর জন্য অন্যের ছবি বিকৃত করে নিজস্ব স্বার্থে ব্যবহার করা গ্রহণযোগ্য নয়।”
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেকেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে অধিক দায়িত্বশীলতার দাবি জানিয়েছেন।

