লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল
সমাজ মানুষের নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ বসবাসের স্থান। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, মানবিকতা, নৈতিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার মধ্য দিয়েই একটি সুস্থ সমাজ গড়ে ওঠে। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের সমাজে এক ধরনের নৈতিক অবক্ষয় দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।
সামাজিক সহিংসতা, মাদকাসক্তি, পারিবারিক অস্থিরতা, সাইবার অপরাধ, নারী ও শিশু নির্যাতন, বাল্যবিবাহ এবং অসামাজিক কর্মকাণ্ড আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশু ও নারীরা। নিরাপত্তাহীনতা এখন শুধু শহরেই সীমাবদ্ধ নয়, গ্রামাঞ্চলেও তা ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।
দেশের বিভিন্ন জায়গায় সাম্প্রতিক সময়ে কন্যা শিশুদের ধর্ষণ ও ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা বেড়েছে। এতে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ, উঠছে প্রশ্ন। গত দুই সপ্তাহে ধর্ষণের পর অন্তত চার শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। এ ছাড়া জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সাড়ে চার মাসে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ১১৮ কন্যাশিশু।
সর্বশেষ গত মঙ্গলবার রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছরের কন্যাশিশুকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করা হয়। গুম করার উদ্দেশ্যে মরদেহ খণ্ডবিখণ্ড করে প্রতিবেশী সোহেল রানা। গত ১৬ মে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় ১০ বছরের এক কন্যাশিশুকে। এ ঘটনায় মেয়েটির এক আত্মীয় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। সাম্প্রতিক সময়ের ধর্ষণ ও হত্যার পাঁচটি ঘটনা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সবকটিতে শিশুরা প্রতিবেশী, আত্মীয় কিংবা ঘনিষ্ঠজনের শিকার হয়েছে।
অপরাধ বিশ্লেষক, সমাজবিজ্ঞানী, আইন বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকারকর্মীদের মতে, এসব ঘটনার পেছনে শুধু ব্যক্তিগত অপরাধ প্রবণতা নয়, দীর্ঘদিনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবক্ষয় দায়ী। মাদকাসক্তির বিস্তার, বিকৃত, অনলাইন কনটেন্টের সহজলভ্যতা, পরিবার ও শিক্ষা ব্যবস্থায় নৈতিক শিক্ষার ঘাটতি এবং অপরাধ করে পার পাওয়ার প্রবণতা এ পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। তাদের মতে, শিশু নির্যাতন ও হত্যার মামলাগুলোর বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার শঙ্কায় থাকে।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য বলছে, গত ১ জানুয়ারি থেকে ২০ মে পর্যন্ত ১১৮ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ধর্ষণচেষ্টার শিকার হয়েছে ৪৬ শিশু। ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হয়েছে ১৪ শিশু এবং ধর্ষণচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে হত্যা করা হয়েছে তিন শিশুকে। ধর্ষণের শিকার দুই শিশু আত্মহত্যা করেছে।
চলতি মাসে ২০ দিনে (১ থেকে ২০ মে পর্যন্ত) ধর্ষণের শিকার হয়েছে ২৪ শিশু। ধর্ষণচেষ্টার শিকার হয়েছে ১২ জন এবং ধর্ষণের ঘটনায় পাঁচজনকে হত্যা করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন ঘটনায় জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত ১১৫ শিশু খুন হয়েছে।
পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সারাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় ৫ হাজার ৯৫৮টি মামলা হয়েছে।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ বলছে, গত বছর ২ হাজার ৮০৮ নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে কন্যাশিশু ছিল ১ হাজার ২৩৪ জন। নারী ১ হাজার ৫৭৪ জন। এর মধ্যে ৫৪৩ কন্যাশিশু ও ২৪৩ নারী ধর্ষণের শিকার হন। ১৮ শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। ধর্ষণের শিকার হয়ে পাঁচ শিশু আত্মহত্যা করে। এ ছাড়া ১৪৭ কন্যাশিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়।
জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশ চাইল্ড হেল্পলাইনে শিশু যৌন হয়রানি সংক্রান্ত ৫ হাজার ৮৫৩টি কল এসেছে। এর মধ্যে ৫২০টি কল এসেছে, যেসব ঘটনায় শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। প্রতিবছর এ ধরনের কলের সংখ্যা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন চাইল্ড হেল্পলাইনের ব্যবস্থাপক চৌধুরী মো. মোহায়মেন।
বর্তমান সময়ে প্রতিদিন সংবাদপত্র খুললেই শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, অপহরণ, যৌতুকের কারণে নারী হত্যা কিংবা সাইবার হয়রানির মতো ঘটনার খবর চোখে পড়ে। এসব ঘটনা শুধু একটি পরিবারকে নয়, পুরো সমাজব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক অবক্ষয় যদি এখনই নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হবে।
সামাজিক অবক্ষয় বলতে সমাজের নৈতিক, সাংস্কৃতিক ও মানবিক মূল্যবোধের ধীরে ধীরে পতনকে বোঝায়। যখন মানুষ সত্য, ন্যায় ও শৃঙ্খলার পথ থেকে সরে গিয়ে অসততা, সহিংসতা ও অপরাধের দিকে ঝুঁকে পড়ে, তখন সমাজে অবক্ষয় সৃষ্টি হয়। বর্তমানে এই অবক্ষয়ের অন্যতম কারণ হলো পারিবারিক বন্ধনের দুর্বলতা, নৈতিক শিক্ষার অভাব, প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার সংকট।
একসময় পরিবার ছিল নৈতিক শিক্ষার প্রধান কেন্দ্র। বাবা-মা সন্তানদের মানবিক মূল্যবোধ শেখাতেন। কিন্তু বর্তমান ব্যস্ত জীবনে অনেক পরিবারে সেই চর্চা কমে গেছে। সন্তানদের সঙ্গে অভিভাবকদের দূরত্ব বাড়ছে। অনেক শিশু মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটকে সঙ্গী করে বড় হচ্ছে, যেখানে ইতিবাচক বিষয়ের পাশাপাশি নেতিবাচক বিষয়ও সহজেই তাদের নাগালে পৌঁছে যাচ্ছে।
প্রযুক্তির অপব্যবহার সামাজিক অবক্ষয়ের অন্যতম বড় কারণ হিসেবে দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্য, অশ্লীলতা, সাইবার বুলিং ও প্রতারণা তরুণ সমাজকে বিপথে নিয়ে যাচ্ছে। অনলাইন গেম ও বিভিন্ন ক্ষতিকর কনটেন্ট শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অনেক ক্ষেত্রে তারা সহিংস আচরণেও জড়িয়ে পড়ছে। এছাড়া মাদকাসক্তি সামাজিক অবক্ষয়কে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে অনেক তরুণ অপরাধপ্রবণ হয়ে উঠছে। নারী ও শিশু নির্যাতনের অনেক ঘটনার পেছনেও মাদকের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
শিশুরা একটি দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের নিরাপদ, সুন্দর ও মানবিক পরিবেশে বেড়ে ওঠার অধিকার রয়েছে। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় অনেক শিশুই নিরাপদ শৈশব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। শিশু নির্যাতন, শিশু শ্রম, অপহরণ, যৌন হয়রানি এবং মানসিক নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে গেছে। অনেক শিশু পরিবারেই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়। আবার দরিদ্র পরিবারের শিশুদের অনেকেই বিদ্যালয়ে যাওয়ার পরিবর্তে ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে জড়িয়ে পড়ছে। এতে তারা শুধু শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে না, বরং বিভিন্ন ধরনের শোষণ ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতার ঘটনা সমাজকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে পরিচিত ব্যক্তিরাই এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকে, যা সমাজের নৈতিক সংকটকে আরও স্পষ্ট করে তোলে। শিশুদের নিরাপত্তাহীনতার কারণে তাদের মানসিক বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে এবং তারা আতঙ্ক ও ভয়ের মধ্যে বেড়ে উঠছে।
সাইবার জগতও শিশুদের জন্য নতুন হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনলাইনে অপরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ, গোপন তথ্য আদান-প্রদান ও অশ্লীল কনটেন্ট শিশুদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। অনেক শিশু সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছে।
বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়ন ও শিক্ষা ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। প্রশাসন, শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা, রাজনীতি থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। কিন্তু তারপরও নারীদের নিরাপত্তা পুরোপুরি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। ঘরের ভেতর থেকে শুরু করে কর্মক্ষেত্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গণপরিবহন পর্যন্ত অনেক নারী প্রতিনিয়ত হয়রানি ও সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। যৌতুকের জন্য নির্যাতন, ধর্ষণ, অ্যাসিড নিক্ষেপ, পারিবারিক সহিংসতা এবং সাইবার হয়রানির ঘটনা সমাজে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।
বাল্যবিবাহ এখনও বাংলাদেশের একটি বড় সামাজিক সমস্যা। অনেক পরিবার দারিদ্র্য, সামাজিক চাপ বা নিরাপত্তার অজুহাতে অল্প বয়সে মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দেয়। এর ফলে মেয়েরা শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ে এবং অল্প বয়সে মাতৃত্বের ঝুঁকিতে পড়ে। কর্মক্ষেত্রেও নারীরা নিরাপত্তাহীনতার শিকার হন। অনেক নারী যৌন হয়রানি, বৈষম্য ও মানসিক চাপের মুখোমুখি হন। আবার সামাজিক লজ্জা ও বিচারহীনতার কারণে অনেকেই নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশ করতে চান না। বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা, সামাজিক কুসংস্কার এবং অপরাধীদের দ্রুত শাস্তি না হওয়ার সংস্কৃতি নারী নির্যাতনের অন্যতম কারণ। সমাজে নারীর প্রতি সম্মান ও সমমর্যাদার দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা না গেলে এই পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়।
সামাজিক অবক্ষয়ের সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয় একটি জাতির ভবিষ্যতের ওপর। শিশু ও নারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগলে পুরো সমাজে অস্থিরতা তৈরি হয়। মানুষ একে অপরের প্রতি বিশ্বাস হারিয়ে ফেলে। পরিবারে শান্তি নষ্ট হয় এবং সামাজিক বন্ধন দুর্বল হয়ে পড়ে। নির্যাতনের শিকার শিশু ও নারীরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। অনেকেই হতাশা, ভয় ও আত্মবিশ্বাসহীনতায় ভোগেন। এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে তাদের ব্যক্তিগত জীবন ও কর্মজীবনে পড়ে। সামাজিক অবক্ষয়ের কারণে শিক্ষার পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শিশু শ্রম, বাল্যবিবাহ ও পারিবারিক সমস্যার কারণে অনেক শিশু ও কিশোরী বিদ্যালয় ছেড়ে দেয়। এতে জাতির মানবসম্পদ উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়। অপরাধ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে সমাজে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। বিনিয়োগ, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
সামাজিক অবক্ষয় রোধে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। শুধু আইন করলেই হবে না, সামাজিক সচেতনতা ও মানবিক মূল্যবোধও জাগ্রত করতে হবে। পরিবারে নৈতিক শিক্ষার চর্চা বাড়াতে হবে। সন্তানদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলে তাদের সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে হবে। শিশুদের মানসিক বিকাশে বাবা-মায়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নৈতিক শিক্ষা ও সামাজিক সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। সাইবার নিরাপত্তা, নারী সম্মান ও মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা জরুরি। নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। অপরাধীদের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে অপরাধ প্রবণতা অনেকাংশে কমে আসবে। মাদক নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। তরুণ সমাজকে খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে হবে। প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। শিশুদের ইন্টারনেট ব্যবহারে অভিভাবকদের নজরদারি বাড়াতে হবে এবং সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সক্রিয় হতে হবে। এছাড়া গণমাধ্যমকে ইতিবাচক সামাজিক মূল্যবোধ প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। সহিংসতা ও অশ্লীলতাকে উৎসাহিত করে এমন কনটেন্ট পরিহার করে সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান ও প্রতিবেদন বাড়ানো প্রয়োজন।
সরকার নারী ও শিশু সুরক্ষায় বিভিন্ন আইন ও কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন এবং শিশু সুরক্ষা আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা জরুরি। পাশাপাশি থানায় অভিযোগ গ্রহণের প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে এবং ভুক্তভোগীদের জন্য আইনি ও মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।
গ্রাম ও শহর উভয় এলাকায় সচেতনতামূলক প্রচারণা বাড়াতে হবে। স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
সামাজিক অবক্ষয় রোধ শুধু সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। সমাজের প্রতিটি মানুষকে এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে। অন্যায় দেখেও নীরব থাকা যাবে না। নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তরুণ সমাজকে ইতিবাচক কাজে সম্পৃক্ত করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে সচেতনতা বৃদ্ধি, মানবিক মূল্যবোধ প্রচার এবং অপরাধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তোলা যেতে পারে।
সামাজিক অবক্ষয় আজ দেশের অন্যতম বড় সংকট। এর সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাব পড়ছে শিশু ও নারীদের ওপর। একটি সভ্য ও উন্নত সমাজ কখনও নারী ও শিশুদের অনিরাপদ রেখে এগিয়ে যেতে পারে না। তাই এখনই সামাজিক অবক্ষয় রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। পরিবার থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পর্যন্ত সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। নৈতিক শিক্ষা, মানবিক মূল্যবোধ, আইনের শাসন ও সামাজিক সচেতনতার সমন্বয়ের মাধ্যমেই গড়ে উঠতে পারে একটি নিরাপদ সমাজ। এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে হবে, যেখানে প্রতিটি শিশু নিরাপদ শৈশব পাবে এবং প্রতিটি নারী মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে পারবে।

