মোঃ শরিফ বিল্লাহ, নীলফামারী প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার বলেছেন, সরকার জুলাই সনদ ও গণভোটকে আলাদা করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে। তিনি দাবি করেন, গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন, অথচ সরকার এখন সেই গণরায় মানতে চাইছে না।
শনিবার (৯ মে) সকালে সৈয়দপুর বিমানবন্দর-এ সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরোয়ার বলেন, প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীরাও গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন। এর মাধ্যমে তারা ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব এবং ৪৭টি সাংবিধানিক সংস্কারের প্রতি সম্মতি জানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “গণভোটের প্রশ্নপত্রে কোথাও নোট অব ডিসেন্ট ছিল না। এখন সরকার সেটিকে অস্বীকার করার চেষ্টা করছে, যা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।”
তিনি আরও বলেন, সরকার শুধু “জুলাই সনদ” মানার কথা বলছে, কিন্তু গণভোটের রায়ের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো অবস্থান নিচ্ছে না। বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, “ক্ষমতায় যাওয়ার আগে তারা গণভোটের পক্ষে ছিল, এখন অবস্থান বদলে ফেলেছে।”
রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলন রাজপথ ও সংসদ—দুই জায়গাতেই চলবে। “সংকট তৈরি করেছে বিএনপি, সমাধানও তাদেরই করতে হবে,” যোগ করেন তিনি।
উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে জামায়াতের এই নেতা বলেন, সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমে তাদের আপত্তি নেই।
তবে উন্নয়ন যেন শুধু ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের এলাকায় সীমাবদ্ধ না থাকে। তিনি সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ঘোষণার দাবি জানান এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনাসহ উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নে বিভিন্ন প্রস্তাব বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “গণতন্ত্র ও মুক্ত গণমাধ্যমের দাবিতে যারা আগে আন্দোলন করেছে, তারাই এখন ভিন্নমতের মিডিয়ার কণ্ঠরোধ করছে।” এ সময় তিনি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আবদুল হালিম, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমানসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। পরে মিয়া গোলাম পরোয়ার ঠাকুরগাঁওয়ে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে রওনা

