তৌহিদুর রহমান, ঝিনাইগাতী (শেরপুর) প্রতিনিধি:
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি হলেও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাদের দাবি, মহারশি নদী পুনঃখনন, নদীর দুই তীরে টেকসই ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ এবং আধুনিক ও কার্যকর পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হলে এই অঞ্চলের দীর্ঘদিনের বন্যা সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব।
স্থানীয়দের তথ্যমতে, গত এক দশকে মহারশি নদীর ভাঙন ও বন্যার কারণে অন্তত পাঁচ শতাধিক পরিবার তাদের বসতভিটা হারিয়েছে। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেই নতুন করে ভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটাতে হয় নদীপাড়ের মানুষের। অনেক পরিবার একাধিকবার বসতবাড়ি স্থানান্তর করতে বাধ্য হয়েছে।
এদিকে, মহারশি নদীর স্থায়ী সমাধানের দাবিতে ২০২৫ সালের ১৬ অক্টোবর স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ভয়েস অব ঝিনাইগাতী’ নদীর দুই পাড়ে টেকসই ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে একটি গণস্বাক্ষর কর্মসূচির আয়োজন করে। ওই কর্মসূচিতে জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, মানবাধিকার কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ৩ হাজার ২৭৩ জন নাগরিক স্বাক্ষর প্রদান করেন।
পরে গণস্বাক্ষরসংবলিত স্মারকলিপি তৎকালীন শেরপুরের জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান-এর মাধ্যমে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বরাবর জমা দেওয়া হয়। তবে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ বা স্থায়ী সমাধান বাস্তবায়িত হয়নি বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রতিবছর বন্যার পর ত্রাণ ও অস্থায়ী মেরামতের পরিবর্তে সরকার যদি দ্রুত মহারশি নদী পুনঃখনন, টেকসই বাঁধ নির্মাণ এবং সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্প বাস্তবায়ন করে, তাহলে ঝিনাইগাতী উপজেলার লাখো মানুষ বন্যার অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

