মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় যুক্ত হলো রাশিয়ার তৈরি বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ও অত্যাধুনিক অ্যাটাক হেলিকপ্টার Mil Mi-28, যা সামরিক বিশ্বে “Night Hunter” বা নৈশ শিকারি নামে সুপরিচিত।
সম্প্রতি ইরানের আকাশে এই বিধ্বংসী যুদ্ধযানটি দেখা যাওয়ার পর থেকে আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। এই হেলিকপ্টারটি মূলত সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর লক্ষ্যেই তৈরি করা হয়েছে। এতে রয়েছে ৩০ মিলিমিটারের শক্তিশালী ক্যানন, ট্যাঙ্ক বিধ্বংসী মিসাইল এবং প্রতিকূল আবহাওয়ায় নির্ভুলভাবে লক্ষ্যভেদে সক্ষম অত্যাধুনিক নাইট ভিশন প্রযুক্তি। দিন হোক বা রাত—যেকোনো পরিস্থিতিতে শত্রু শিবিরের প্রতিরক্ষা দেয়াল গুঁড়িয়ে দিতে এটি অপ্রতিদ্বন্দ্বী।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের বিমান বাহিনীতে এই প্ল্যাটফর্মের অন্তর্ভুক্তি শুধু সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি নয়, বরং আকাশযুদ্ধের কৌশলে একটি বড় ধরনের গুণগত পরিবর্তন। বিশেষ করে যখন ইসরায়েল ও আমেরিকার সাথে ইরানের স্নায়ুযুদ্ধ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে, তখন রাশিয়ার এই সর্বশ্রেষ্ঠ মারণাস্ত্র তেহরানের হাতকে আরও শক্তিশালী করল। Mi-28 হেলিকপ্টারটি মূলত তার গতি এবং আঘাত হানার ক্ষমতার জন্য পরিচিত, যা যেকোনো সম্মুখ যুদ্ধে শত্রুপক্ষের আর্মার্ড ডিভিশন বা ট্যাংক বহরকে মুহূর্তে তছনছ করে দিতে পারে। ইরানের বর্তমান সামরিক অবকাঠামোতে এই প্রযুক্তির সংযোজন আকাশ সীমায় এক নতুন আধিপত্যের সূচনা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, রাশিয়া ও ইরানের মধ্যকার সামরিক সহযোগিতা এখন আর কেবল কূটনৈতিক আলোচনার টেবিলে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা সরাসরি মাঠপর্যায়ে প্রকাশ্য শক্তি প্রদর্শনে রূপ নিয়েছে। রাশিয়ার এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ইরানে আসার বিষয়টি ওয়াশিংটন এবং তেল আবিবের জন্য একটি বড় ধরনের সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই পদক্ষেপটি প্রমাণ করে যে, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক চাপের মুখেও তেহরান ও মস্কোর মধ্যকার প্রতিরক্ষা বন্ধন আগের চেয়ে অনেক বেশি সুসংহত হয়েছে। এই “নাইট হান্টার”-এর উপস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ যুদ্ধের ভারসাম্য পুরোপুরি বদলে দিতে পারে এবং যেকোনো সম্ভাব্য আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইরানের প্রতিরক্ষা দেয়ালকে আরও দুর্ভেদ্য করে তুলবে।

