স্বাধীনতার পাঁচ দশকের বেশি সময় পরও বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক ভিত্তি, কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষা এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার কৌশল নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে সুস্পষ্ট ঐকমত্য গড়ে ওঠেনি—এমন মন্তব্য উঠে এসেছে এক বিশ্লেষণধর্মী লেখায়। সেখানে দাবি করা হয়েছে, বর্তমান শিক্ষা কাঠামো দক্ষ জনশক্তি তৈরির চেয়ে শিক্ষিত বেকার জনগোষ্ঠী বাড়াতেই বেশি ভূমিকা রাখছে।
লেখায় বলা হয়, দেশে বিজ্ঞান, কলা ও ব্যবসায় শিক্ষা কেন্দ্রিক প্রচলিত কাঠামোকে সময়োপযোগীভাবে সংস্কার করা হয়নি। একই সঙ্গে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের পর্যাপ্ত সুযোগ তৈরি না করেই নতুন নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে কাঙ্ক্ষিত ফল দিচ্ছে না।
এতে আরও বলা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কেবল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধি নয়; বরং রাষ্ট্রের প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষ, উদ্ভাবনী ও কর্মসংস্থানমুখী মানবসম্পদ তৈরি করা। এ ক্ষেত্রে নীতিনির্ধারণে দূরদর্শিতার অভাব এবং রাজনৈতিক সংকীর্ণতার কারণে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি হয়নি বলেও লেখক মত দেন।
লেখাটিতে আরও দাবি করা হয়, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে নতুন প্রজন্ম অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে। একই সঙ্গে চলমান এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের আন্দোলনকে বৃহত্তর শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ-সংকটের প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
লেখকের ভাষ্য অনুযায়ী, পরীক্ষার্থীদের আন্দোলন কেবল একটি পরীক্ষাকে ঘিরে নয়; বরং ন্যায়সঙ্গত শিক্ষা ব্যবস্থা, মর্যাদাপূর্ণ ভবিষ্যৎ এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবির বহিঃপ্রকাশ।
তবে এসব বক্তব্য ও বিশ্লেষণ লেখকের নিজস্ব মতামত। এ বিষয়ে সরকারের বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো প্রতিক্রিয়া ওই লেখায় উল্লেখ করা হয়নি।

