চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের সর্বোচ্চ ভবনে ছোট উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় তদন্তে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহত পাইলটের ব্যক্তিগত ডায়েরিতে একাধিকবার নিজের জীবন শেষ করার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) চাওইয়াং জেলা প্রশাসনের প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটির পেছনে ব্যক্তিগত কারণের ইঙ্গিত মিলেছে।
দুর্ঘটনায় ৬৬ বছর বয়সী পাইলট লিউ নিহত হন। এছাড়া আরও ১৩ জন আহত হয়েছেন। তবে আহতদের কারও অবস্থা আশঙ্কাজনক নয় এবং একজনকে ইতোমধ্যে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে বেইজিংয়ের ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। উড়োজাহাজটি শহরের ১০৯ তলা সিআইটিআইসি টাওয়ারে আঘাত হানলে ভবনের কাচের দেয়ালের একটি বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি অস্থায়ীভাবে ঢেকে দেওয়া হয়।
তদন্তে জানা গেছে, লিউ প্রথমে একজন প্রশিক্ষকের সঙ্গে দুই আসনের একটি প্রশিক্ষণ উড়োজাহাজে উড্ডয়ন করেন। পরে শহরতলির একটি বিমানবন্দর থেকে একাই উড়োজাহাজ নিয়ে আবার আকাশে ওঠেন। একপর্যায়ে তিনি নির্ধারিত ফ্লাইটপথ থেকে সরে যান এবং এরপর তার সঙ্গে নিয়ন্ত্রণকক্ষের সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, লিউর কোনো স্থায়ী চাকরি ছিল না। তিনি বিবাহবিচ্ছিন্ন ছিলেন এবং একা বসবাস করতেন। দীর্ঘদিন ধরে অনিদ্রা ও মানসিক চাপের সমস্যায় ভুগছিলেন। তার ব্যক্তিগত ডায়েরিতে আত্মহত্যার ইচ্ছার কথা একাধিকবার লেখা ছিল বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।
ঘটনাটি নতুন করে বেইজিংয়ের আকাশপথের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। দুর্ঘটনাস্থলটি চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক এলাকা ঝংনানহাই থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
চীনবিষয়ক বিশ্লেষক বিল বিশপের মতে, উড়োজাহাজটি যদি আরও কয়েক সেকেন্ড আকাশে থাকত, তাহলে সেটি ঝংনানহাইয়ের দিকেও যেতে পারত। এমনটি ঘটলে তা চীনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য বড় ধরনের বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করত।
এদিকে ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিআইটিআইসি টাওয়ারের ছবি, ভিডিও ও বিভিন্ন মিম দ্রুত সরিয়ে ফেলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, ঘটনাটি ঘিরে জনমনে আলোচনা সীমিত রাখতেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ঘটনাটি পাইলটের ভুল, যান্ত্রিক ত্রুটি অথবা ইচ্ছাকৃত পদক্ষেপ—সব দিক থেকেই তদন্ত চলছে। তবে ডায়েরিতে পাওয়া তথ্যের কারণে আত্মহত্যার সম্ভাবনাও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছেন তদন্তকারীরা।

