স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব এবং গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের প্রকৌশলী পরিচয় ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চাকরিচ্যুত চেইনম্যান মুজিবুর রহমান–এর বিরুদ্ধে।
তার বিরুদ্ধে করা একাধিক মামলায় ইতোমধ্যে আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলেও তিনি এখনো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, বিভিন্ন সময় তিনি সরকারি কর্মকর্তা, রাজউক কর্মকর্তা এবং এমনকি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তার পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি ভুয়া ভিজিটিং কার্ড ও পরিচয়পত্র ব্যবহার করে প্রতারণার বিষয়ও উঠে এসেছে।
একাধিক ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, পূর্বাচলে প্লট দেওয়ার নামে কোটি টাকার বেশি অর্থ নেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো একাধিক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
তদন্ত সংস্থা পিবিআই জানিয়েছে, তদন্তে তার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির একাধিক অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। বিভিন্ন মামলায় মিথ্যা তথ্য দিয়ে হয়রানির প্রমাণও মিলেছে বলে দাবি করা হয়।
অন্যদিকে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)–এর অনুসন্ধানেও তার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা জানা গেছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তিনি দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তদন্তাধীন এবং এখন পর্যন্ত কোনো আদালতে প্রতারণার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন, একাধিক ওয়ারেন্ট থাকা সত্ত্বেও তার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় তিনি এখনো নতুন নতুন পরিচয়ে প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

