সত্যজিৎ দাস:
মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালকে ঘিরে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে জেলার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা। প্রতিদিনই দীর্ঘ রোগীর সারি,শয্যা সংকট এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধার ঘাটতি-এসব বাস্তবতা সামনে রেখে হাসপাতালটিকে ২৫০ শয্যা থেকে সরাসরি ৫০০ শয্যায় উন্নীত করার দাবি জোরালো হয়েছে।
সোমবার (৪ মে) দুপুরে হাসপাতালটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এম নাসের রহমান। পরিদর্শনের সময় তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড,অবকাঠামো এবং সেবার মান ঘুরে দেখেন। বাড়তি রোগীর চাপ ও সীমিত সুযোগ-সুবিধার কারণে চিকিৎসাসেবায় যে চাপ তৈরি হচ্ছে,তা তিনি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন।
এ সময় চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করে হাসপাতালের উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন তিনি। বিশেষ করে হাসপাতালটিকে ভবিষ্যতে মেডিকেল কলেজে রূপান্তরের সম্ভাবনাও আলোচনায় উঠে আসে।
হাসপাতাল প্রাঙ্গণে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এমপি নাসের রহমান বলেন,
“ইনশাআল্লাহ,সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করতে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেওয়া হবে। বর্তমান চাহিদার কথা বিবেচনায় নিয়ে হাসপাতালকে আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা সময়ের দাবি।”
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়,বর্তমানে শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি অবকাঠামোগত বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে। পুরোনো তিনতলা ভবন ভেঙে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন ১০ তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণের চিন্তা করা হচ্ছে। এতে চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগও তৈরি হবে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. প্রণয় কান্তি দাশ জানান,৪০০ শয্যার পরিবর্তে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করা গেলে রোগীদের আরও কার্যকরভাবে সেবা দেওয়া সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন,“২০২১ সাল থেকে এমআরআই মেশিনটি অকেজো অবস্থায় রয়েছে,সেটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সিটিস্ক্যান ও ডায়ালাইসিস সেবা চালু থাকলেও ভবিষ্যতে সিসিইউ ও আইসিইউ চালুর প্রয়োজন রয়েছে।”
পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
স্থানীয়দের মতে,মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতাল শুধু একটি চিকিৎসাকেন্দ্র নয়,এটি পুরো জেলার মানুষের জন্য প্রধান ভরসাস্থল। তাই শয্যা বৃদ্ধি,আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংযোজন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন বাস্তবায়ন হলে জেলার স্বাস্থ্যসেবায় একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তারা আশাবাদী।

