সত্যজিৎ দাস, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
ভারতের মেঘালয় ও আসামের পাহাড়ি এলাকায় রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে মৌলভীবাজারসহ সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিক বন্যার তীব্র আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি) জানিয়েছে,আগামী তিন দিন অঞ্চলের প্রধান নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে।
এফএফডব্লিউসির সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, ভারতের বরাক অববাহিকা থেকে নেমে আসা ঢলের প্রভাবে কুশিয়ারা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে এবং কয়েকটি পয়েন্টে তা বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে নদীটির পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে মনু, ধলাই ও জুড়ী নদীর পানিও ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে,ফলে তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধগুলোর ওপর চাপ বাড়ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী,কুশিয়ারা নদীর শেরপুর পয়েন্টসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে পানি বৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। ফেঞ্চুগঞ্জ স্টেশনে নদীর পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। যদিও শনিবার (২০ জুন) সকাল পর্যন্ত জেলার কোনো নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি, তবে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ভারতের মেঘালয়ের মাওসিনরামে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৩০ মিলিমিটার এবং চেরাপুঞ্জি (সোহরা) এলাকায় প্রায় ৪৭০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে,এই বিপুল পরিমাণ বৃষ্টির পানি ঢল হয়ে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী হাওর ও নিম্নাঞ্চলের দিকে ধাবিত হচ্ছে।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর সিলেট বিভাগসহ দেশের ১৪টি অঞ্চলের জন্য ১ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি করেছে। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী,আগামী কয়েক দিন ভারী বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢল অব্যাহত থাকতে পারে।
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে হাকালুকি হাওর তীরবর্তী জুড়ী,কুলাউড়া ও বড়লেখা উপজেলার নিম্নাঞ্চল। এছাড়া রাজনগর ও মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কুশিয়ারা ও মনু নদীর তীরবর্তী গ্রামগুলোতেও পানি প্রবেশের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড ইতোমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলোর ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি শুরু করেছে।
জেলা প্রশাসন নদী তীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ এবং পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা অনুসরণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী তিন দিন বৃষ্টি ও উজানের ঢল অব্যাহত থাকলে সুরমা-কুশিয়ারা,মনু ও ধলাই অববাহিকার নিম্নাঞ্চলগুলোতে জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

