সত্যজিৎ দাস, (মৌলভীবাজার):
বিশ্ব সাপ দিবসের দিনই মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একটি অজগর সাপ উদ্ধার করে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার ৫ নম্বর কালাপুর ইউনিয়নের উত্তর ভাড়াউড়া এলাকার যোবায়ের আহমেদের বাড়ি থেকে সাপটি উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান,কয়েকদিন ধরে তাদের বাড়ি থেকে হাঁস ও মুরগির বাচ্চা রহস্যজনকভাবে হারিয়ে যাচ্ছিল। বৃহস্পতিবার সকালে তারা দেখতে পান,একটি বড় অজগর সাপ বাড়ির দেয়াল বেয়ে পাশের একটি গাছের দিকে যাচ্ছে। তখন তাদের ধারণা হয়,দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ হওয়া হাঁস ও মুরগির বাচ্চাগুলো সম্ভবত ওই অজগরের শিকার হয়েছে।
খবর পেয়ে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল, পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ও রিদন গৌড় ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাপটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে সেটি শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়।
বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল বলেন,অজগর বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বিষহীন সাপ। দীর্ঘদিন ধরে উদ্ধার হওয়া অজগরের আচরণ পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে দেখা গেছে,একটি স্ত্রী অজগর সাধারণত একবারে প্রায় ৪০টি পর্যন্ত ডিম পাড়ে। ডিম পাড়ার পর প্রায় দুই মাস নিজের শরীরের কুণ্ডলী দিয়ে ডিমগুলো ঢেকে রেখে তা দেয় এবং বাচ্চা ফোটা পর্যন্ত পাহারা দেয়,যা সরীসৃপ প্রাণীদের মধ্যে বিরল মাতৃত্বের দৃষ্টান্ত।
পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ বলেন,অজগর বিষধর নয় এবং সাধারণত মানুষকে আক্রমণ করে না। এরা গন্ধ ও শরীরের তাপমাত্রা শনাক্ত করার বিশেষ ক্ষমতার মাধ্যমে শিকার খুঁজে বের করে। পরে শক্তিশালী দেহ দিয়ে শিকারকে পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এবং সম্পূর্ণ শিকার একবারে গিলে ফেলে। ভারী খাবার খাওয়ার পর কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত তারা আর খাবার গ্রহণ করে না।
তিনি আরও বলেন,লোকালয় কিংবা চা-বাগান এলাকায় ঢুকে অজগর সাধারণত হাঁস,মুরগি, কবুতর,ছাগল কিংবা পুকুরের মাছ শিকার করে। তীব্র গরম, বর্ষা কিংবা বন্যার সময় শুকনো ও নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে তারা অনেক সময় মানুষের বসতবাড়ি,গোয়ালঘর বা চা-বাগান এলাকায় চলে আসে। এছাড়া লাউয়াছড়া বনাঞ্চলে প্রাকৃতিক আবাসস্থল ও খাদ্যের সংকট বৃদ্ধি পাওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে লোকালয়ে অজগরের উপস্থিতি আগের তুলনায় বেড়েছে।
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে,সাপ প্রকৃতির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রাণী। তারা ইঁদুরসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর প্রাণী নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে কৃষি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পৃথিবীতে প্রায় সাড়ে তিন হাজার প্রজাতির সাপ রয়েছে। এর মধ্যে অল্প কয়েকটি প্রজাতি বিষধর এবং মানুষের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
প্রতি বছর ১৬ জুলাই বিশ্বজুড়ে ‘বিশ্ব সাপ দিবস’ পালন করা হয়। দিবসটির উদ্দেশ্য হলো সাপ সম্পর্কে মানুষের অযৌক্তিক ভয় ও কুসংস্কার দূর করা,সাপের পরিবেশগত গুরুত্ব তুলে ধরা এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।

